যেই কারণে মাওলানা মওদুদী মুসলিম লীগে যোগদান না করে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এখন কি সেই কারণ আর নাই? ‘একামতে দ্বীন’ আর ‘খেদমতে দ্বীনে’র ভাগাভাগিটা কি সঠিক ছিল?
মুসলমানদের জন্য হোমল্যান্ড প্রতিষ্ঠা ছিল মুসলিম লীগের লক্ষ্য। পাক ভারত উপমহাদেশে ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা ছিল জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। ‘ইসলামী রাষ্ট্রে’র পরিবর্তে ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পুনঃনির্ধারণের মাধ্যমে এখনকার জামায়াতে ইসলামি হাঁটছে তখনকার মুসলিম লীগের পথে।
অংকের নিয়ম বলে, কোন এক পক্ষ তখন ভুল করেছিল, অথবা এখন ভুল করছে। সেটি কোন পক্ষ?
আরেকটা কথা।
দুনিয়াতে তো অলরেডি ডেভেলপড কান্ট্রি হিসেবে প্রায় অর্ধশত কল্যাণ রাষ্ট্র আছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ না হয় সেগুলোর মধ্যে এক নম্বর কিংবা একান্নতমই হলো। ফাইন! তাতে করে কী আসে যায়, এজ আ মুসলিম? অর, ফ্রম ইসলামিক পয়েন্ট অব ভিউ?
প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর, মানলাম। কিন্তু একেবারেই কি অযৌক্তিক?

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Md. Istiaq Hossain Mojumder: শহিদ কামারুজ্জামানের চিঠি অনুসরণ করলে ভালো হতো। এখনো সে সময় আছে না গেছে তা নিয়ে সন্দিহান। তবে আমি খুশি হতাম তারা দোলাচলে না থেকে যেকোনো একটা পক্ষ বেছে নিলে। জামায়াত থেকে সম্ভবত সামনে আরো বেশ কিছু লোক বেরিয়ে যাবে। তারা জাস্টিস পার্টি হোক রাজনীতি করুক। তাদের ৭১ প্রশ্ন মূখ্য না এখন। প্র্যাকটিসিং ও নন প্র্যাকটিসিং সবার নিকট তাদের নামের সাথে ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন। সেকুলার নামেও ইসলামপন্থি কাজ করা যায়। তাতে মানুষের আশা প্রত্যাশা কম থাকে।
যতটুকু করতে পারে সামর্থ্যের মধ্যে তাতেই জনতা বাহবা দেয়। কিন্তু সাথে ইসলাম রেখে সিস্টেমের ভিতরে ডুকে আপোষকামীতা তার জাস্টিফিকেশান দেওয়া এসব না অনেক জনশক্তি নিতে পারে, না সাধারণ মানুষ। গত পনেরো মাসে ব্যাক্তিগত যোগাযোগ যতটুকু বুঝলাম শিবির কিংবা জামায়াতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছেলেপেলে বুঝতে পারেনা, তারা নেয় এটাকে এক ধোঁয়াশা হিসাবে। তারা বুঝতে পারেনা দু নৌকায় পা দিয়ে চলা এ সংগঠনটা আদতে কি চায়, কিভাবে চায়।
Mohammad Mozammel Hoque: The train of power politics is non-stop. The train husband started, and eventually it will become a runaway rail. So, no back way for them. they have to just proceed on, and do whatever situation demands them to do, no matter it is ideologically consistent or not.
Fahad Ahmed: কল্যাণ রাষ্ট্র আবার কোন ঘোড়ার ডিম? শরিয়াহর দৃষ্টিতে কল্যাণ রাষ্ট্র সমর্থনযোগ্য? সিরাতে, খুলাফায়ে রাশেদাহ কিংবা ফিক্বহ থেকে ইসলামে “কল্যাণ রাষ্ট্র” নামক কোনো কিছুর অস্তিত্ব দেখাতে পারবে?
ইসলামে রাষ্ট্র দুই প্রকার- হয় দারুল ইসলাম নাহয় দারুল কুফর। যারা বলছে ইসলামি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার প্রথম স্টেপ কল্যাণ রাষ্ট্র- তবে এর কোনো দলিল পেশ করুক। যেই রাষ্ট্রের ভিত্তি তাওহীদ নয়, সেটা আবার কেমন কল্যাণ?
Mohammad Mozammel Hoque: বাংলাদেশ কি দারুল ইসলাম? নাকি, দারুল কুফর? খুব সংক্ষেপে হা-না কিছু একটা বললে খুশি হব।
Mehedi Hasan: তারা বলে স্টেপ বাই স্টেপ আগাবে। দৃষ্টি থাকলে যে কেউ বুঝবে, স্টেপ বাই স্টেপ ইসলাম থেকে তাদের দূরত্ব বাড়ছে।
Mohammad Mozammel Hoque: in a sense. ‘কামরুজ্জামান ফর্মুলা’ গ্রহণ না করার কারণে এই ঝামেলা তৈরি হয়েছে। তাদের আর এখন ফেরার পথ নাই। ‘ইসলামী আন্দোলন’ ফ্লেভারের নতুন সংগঠন গড়ে ওঠা এখন সময়ের দাবি।
Mohammad Saifullah: ইসলামী রাষ্ট্র মানেই কল্যাণ রাষ্ট্র! (মানব তৈরি কল্যাণ রাষ্ট্র ভিন্ন)
Mohammad Mozammel Hoque: মানুষ তো কল্যাণ রাষ্ট্র বলতে মানব তৈরি কল্যাণ রাষ্ট্রই বোঝে। এক্ষেত্রে, কল্যাণ রাষ্ট্র বলতে ‘ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ বুঝিয়ে ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ চাই, এই কথাটা বলার মাধ্যমে কি একটা ইকুইভোকেশান ফেলাসি হচ্ছে না?
Mohammad Saifullah: অবশ্যই। কেউ যদি প্রথাগত কল্যাণ রাষ্ট্র বলে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র বুঝাতে চায় তা ফেলাসি!
Mahdi Hasan: Strict Puritanist approach থেকে খুলাফায়ে রাশেদা এরপরের সবগুলো খিলাফাহকে স্রেফ ‘মামলাকা’ আখ্যা দেয়া, সাহাবাদের মধ্যকার পলিটিক্যাল টারময়েলকে অনেক ক্রিটিক্যালি এসেস করা, এই ইস্যু গুলো বর্তমান জামাতের Pragmatist approach এর সাথে একদম বেমানান।
এর মধ্যে অনেকগুলো ইস্যুতে স্ট্যান্স এর পরিবর্তন আসলেও মুসলিম লীগ এর সাথে মৌলিক বিরোধ এর ব্যাপারে উনাদের বয়ানের তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি।
They are basically a secular party at this point. It’s about time they get rid of the label of Islamism, like the Ikhwanis of Tunisia and Sudan
Mohammad Mozammel Hoque: তিউনিসিয়া এবং সুদানে তো তারা দিনের পর দিন মাসের পর মাস দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার ভিতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এর কোনো লক্ষণ তো এখানে দেখা যাচ্ছে না। সবকিছু কীভাবে যেন তালেগোলে হয়ে যাচ্ছে। আদর্শ ইত্যাদির চেয়ে ক্ষমতার মোহ যেন তাদের কাছে মূল চালিকাশক্তি।
ক্ষমতার রাজনীতির যে ট্রেইনে জামায়াত উঠে বসেছে, সেইটা ননস্টপ। জামায়াতের জন্য ফেরার পথ নাই। সামনের পথে তাদের ক্লাসিকাল লিটারেচার এবং সাংগঠনিক কাঠামো বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
Abdullah Al Mumin: কল্যাণ রাষ্ট্রই পূর্ণাঙ্গ ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম ধাপ।
Mohammad Mozammel Hoque: বুঝলাম। তবে সেটি জামায়াতের মৌলিক লিটারেচার যেমন গঠনতন্ত্রের কোথায় আছে? এবং এই কথা জামায়াত পাবলিকলি কখন কোথায় বলেছে? কিংবা ফ্রিকোয়েন্টলি বলে কিনা?
Ahnaf Abid: হিকমাহ বুঝেন না আপনারা? সংসদে গিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র সম্ভব নয়, এর জন্য ইসলামি বিপ্লব প্রয়োজন, সেই বিপ্লবের রাস্তা জামায়াত খুলতে তখনই পারবে, যখন তারা ক্ষমতায় যাবে। সংসদে যেহেতু শরিয়া সরাসরি পাশ করা মুশকিল তাই কল্যানের নামে আস্তে আস্তে ইসলামী করে ফেলা।
Mohammad Mozammel Hoque: ‘কল্যাণের নামে আস্তে আস্তে ইসলামী করে ফেলা’ – এটা কতটুকু ইসলামিক? জামায়াত ইসলামি কি সত্যিকারভাবে এমনটা মনে করে?
Mohammad Ayub Miah: We need justice and equity-based welfare state.
Mohammad Mozammel Hoque: স্যার, আপনার কাছে লেখাটা পৌঁছেছে দেখে ভালো লাগলো। এগুলো নিয়ে আমরা অনেকদিন থেকে আলাপ-আলোচনা করি। কথাবার্তা বলি। বইপত্র প্রকাশ করেছি। বিশেষ করে তিউনিশিয়ার ওপরে আমাদের বইটা এক্ষেত্রে খুবই রিলেভেন্ট। এটলিস্ট আমাদের কাছে এগুলো ক্লিয়ার।
কিন্তু আমি চাচ্ছি, যারা যেটা বলে সেটা যেন তারা বুঝে শুনে বলেন, এবং তাদের কথার সাথে যেন কাজের মিল থাকে। সাপোর্ট বেইস এবং লিডারশিপ এর মধ্যে যাতে চিন্তার মিল থাকে।
Muhammad AL-Amin AL-Baibars: হঠাৎ করেই ইসলামী রাষ্ট্র হবে, এটা ভুল হবে। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রাথমিক ধাপ। এই ধাপ পার হয়েই যেতে হবে ইসলামি রাষ্ট্রের দিকে।
Mohammad Mozammel Hoque: কথাটা তো সেন্স মেইক করে। যদি জামায়াত এমনটাই মনে করে তাহলে তারা এ’ব্যাপারে একটা রোডম্যাপ দেয় না কেন? ঝেড়েকেশে কথাটা বলে না কেন? সমস্যা কোথায়?
Zahid Hasan Rifat: বর্তমান প্রেক্ষাপটের হিসেবে আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য যে রাষ্ট্র প্রয়োজন সেই রাষ্ট্র কি ইসলামের প্রেক্ষাপটে ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে এক্সিস্টেনশিয়াল হবে? যদি হয় এক কথা তবে যদি না হয়, কল্যাণকর রাষ্ট্রের বিপরীতে হোক আর যাইহোক, বর্তমান প্রেক্ষাপটের রাষ্ট্রে ইসলামিয়াত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আর আম অর্থে দুনিয়ায় আমরা যে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলি তার প্রয়োজনীয়তা কি একই সিগনিফিক্যান্স বহন করে?
Harun Akon: মোজাম্মেল ভাই, আপনার লেখা পড়লে মনে হয় ‘হয় আপনার মতামত জামায়াত মানছে না, নয়তো আপনি জামায়াত করেন না’।
Mohammad Mozammel Hoque: আমার মতামত জামায়াত কেন মানবে? তারা তাদের মত করে চলবে। সেক্ষেত্রে তাদের পুরনো লোকজন, এবং যারা আশেপাশে আছে বর্তমানে, তারা তাদের মানে জামায়াতের কথাগুলো বুঝতে চাইবে, জামায়াত সম্পর্কে জানতে চাইবে, জামায়াতের আগের কথার সাথে পরের কথাকে মিলাতে চাইবে। সেটাই তো স্বাভাবিক। তাই না?
Asadul Karim: ইসলামি রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এটা আলাদা নয় বরং একে অপরের পরিপূরক।
Mohammad Mozammel Hoque: ইসলামের মূল উদ্দেশ্য তৌহিদ প্রতিষ্ঠা করা। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যদি ইসলামের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে তো আমার লেখায় যেটা লিখেছি, দুনিয়াতে অনেকগুলো কল্যাণ রাষ্ট্র আছে। সেগুলোতে তো ইসলামের কথা বলা হচ্ছে না। তাহলে ইসলামের নামে আলাদা করে কল্যাণ রাষ্ট্র করার দরকার কি?
Shahidullah Shahid: কল্যাণ রাষ্ট্রের পথ ধরে ক্রমান্বয়ে ঘুরতে থাকুন। যতটুকু ঘুরা যায়। অবস্থা বিবেচনায় মনে হয় এটিই উত্তম পন্থা।
Mohammad Mozammel Hoque: পোটেনশিয়ালি কোনো কিছুকে যদি সেটআপ করা না যায় তাহলে সেটার একচুয়ালাইজেশন কিভাবে হবে? তত্ত্বে না মিললে বাস্তবে কিভাবে মিলবে?
Mohammad Abdul Hannan: প্রত্যেকটি ইসলামি রাষ্ট্রই কল্যাণ রাষ্ট্র। কিন্তু প্রত্যেকটি কল্যাণ রাষ্ট্র ইসলামি রাষ্ট্র নয়। তবে কল্যাণ রাষ্ট্রে যদি কোন কোরআন বিরোধী আইন না থাকে সেটা ইসলামি রাষ্ট্রের পর্যায়ে পড়ে।
Mohammad Mozammel Hoque: আমাদের মানে ‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্রে’র সাইটে একটা রাষ্ট্রের স্কেল দেয়া আছে। সেখানে ইসলামী রাষ্ট্র সম্পর্কে আপনি যে ধরনের বললেন সে ধরনের কথাবার্তা আছে। কিন্তু জামায়াত তো সেগুলোকে এন্ডোর্স করে না। হয়তো তারা নিজেরাই বোঝেন না। অথবা তারা চান না, তাদের প্রকৃত অবস্থানটা লোকদের কাছে ক্লিয়ার হোক। আমি এই ধরনের লুকোচুরি পছন্দ করি না। এবং দিনশেষে টেকসই কিছু করার জন্য এই ধরনের তাত্ত্বিক অসঙ্গতি ও দ্বিচারিতা ঠিক না। ক্ষতিকর।
Abid Ahsan Raiyan: ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নটা মূলত একটা ইউটোপিয়ান স্বপ্ন। জামায়াত এটা ’৪৭-এ না বুঝলেও এখন এসে বুঝেছে। অতএব জামায়াতের ’৪৭ এর অবস্থানটাই ভুল ছিলো। জামায়াত-শিবিরের অ্যাক্টিভিস্টরা এটা কমবেশি স্বীকারও করে।
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াত সবাইকে আত্মসমালোচনা করার জন্য বলে। কিন্তু জামায়াতের কোনো আত্মসমালোচনামূলক কথা, লেখা বা কার্যক্রম আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি। আছে কি?
Childish Showrov: যৌক্তিক স্যার। আমিও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, কিন্তু চিন্তা করি মাঝে মাঝে যে ডেমোক্রেটিক পথে কখনোই ইসলামিক দল ক্ষমতায় যেতে পারবেনা/যেয়ে টিকে থাকতে পারবেনা।
এর থেকে বরং বেটার হলো নিজেদের বিপ্লবী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া।তার সাথে সাথে একটা ডেমোক্রেটিক দল খোলা/যারা আছে তাদের কয়েকটাকে এলাই করে সমর্থন দেওয়া,যারা হবে ডেমোক্রেটিক+সৎ+মুসলিম মুল্যবোধে বিশ্বাসী।এদেরকে জামায়াত+শিবির থেকে সৎ ও যোগ্য জনবল দিয়ে সহায়তা করবে।
Mohammad Mozammel Hoque: এইটা জামায়াতের ‘কামরুজ্জামান ফর্মুলা’। জামায়াত সেই ফর্মুলাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন জামায়াতের পক্ষে কোনোভাবেই এই ধরনের সেটআপে যাওয়া সম্ভব না।
ক্ষমতার যে দৌড় জামায়াত শুরু করেছে তা বন্ধ করার, থামার কোনো উপায় নাই। হয় লক্ষ্য, না হয় মৃত্যু। তাদের ঘোষিত যে লক্ষ্য, কল্যান রাষ্ট্র, সেটাকে তারা বোঝেন ‘ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র’ হিসেবে, যা তাদের দৃষ্টিতে ‘ইসলামী রাষ্ট্রে’র নামান্তর।
বাস্তবে সেটা একটা নিছক সেকুলার ওয়েলফেয়ার স্টেইট ছাড়া অন্য কিছু নয়। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো মানে, মতাদর্শগত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। এ এক অদ্ভুত ডিলেমায় পড়ে গেছে ডাক্তার শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রিয় প্রাক্তন সংগঠন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
Atiq Islam: ইসলামের পরিভাষায় কল্যাণ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা যাহা ইসলামি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা একই। ইসলাম বলে ইসলামের বাহিরে কোনো কল্যাণ নাই। হাইয়া আলাসসালাহ আর হাইয়া আলালফালার মধ্যে যেমন তফাৎ নাই।দ
Mohammad Mozammel Hoque: ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ কথাটা শুনলে আমাদের চোখে ভাসে স্ক্যান্ডিনেভিএন কান্ট্রিগুলোর ছবি। আর ইসলামিক কোনো সংগঠন যখন ‘কল্যাণ রাষ্ট্রে’র কথা বলে তখন তাদের চোখে ভাসে তৎকালীন খেলাফত ব্যবস্থা।
প্রশ্নটা হচ্ছে, এখনকার সময়ের কল্যাণ রাষ্ট্র আর তখনকার খেলাফত ব্যবস্থা, দুটো কি একই জিনিস? নাকি, আলাদা?
যদি আলাদা হয় তাহলে বলতে হয়, এখানে একটা ভুল হচ্ছে। আমাদের ডিসিপ্লিনে এইটাকে বলে equivocation fallacy ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য খেলাফত ব্যবস্থা ভালো, নাকি কল্যাণ রাষ্ট্র ভালো, সেই আলোচনা এখানে করা হচ্ছে না।
Mrh Faisal: ইসলামী রাষ্ট্র আর কল্যাণ রাষ্ট্রের পার্থক্য কি?
Mohammad Mozammel Hoque: পার্থক্য না থাকে যদি, তাহলে ইসলাম ছাড়াই তো দুনিয়ার অনেক রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে বলতে হবে। ইসলাম ছাড়াই যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে ইসলামেরই বা দরকার কী? তাহলে নতুন করে আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার দরকার কী?
প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা নাই এমন নয়। এসব বিষয়ে আমার অনেক অনেক লেখা আছে যেগুলো আমার সাইটে পাবেন। গাদা গাদা আর্টিকেল আর কয়েকটা বই। বরং আমি মনে করি, জামায়াতের উচিত এ প্রসঙ্গগুলো নিয়ে ক্লিয়ারকাট পজিশনে আসা। তিউনিসিয়ার অন নাহদা হতে পারে একটা গুড এক্সাম্পল।
Mohammad Idris Nazir: কল্যাণ রাষ্ট্রের উৎকর্ষ দিক হলো ইসলামী রাষ্ট্র।
Mohammad Mozammel Hoque: ইসলামী রাষ্ট্র সমান সমান কল্যাণ রাষ্ট্র? নাকি, কল্যাণ রাষ্ট্র সমান সমান ইসলামী রাষ্ট্র? এই দুইটার মধ্যে আসলে সম্পর্কটা কী? আইডেন্টিক্যাল? নেসেসারি? নাকি, অকেশনাল?
যারা এগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলেন তাদের কাছে এই দুই এন্টিটির ইন্টাররিলেশন ক্লিয়ার থাকা উচিত।
Ahsanul Haque Jihad: যেহেতু বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের মত দেশে পূর্ন শরিয়া ইমপ্লেমেন্ট করা কষ্টসাধ্য তাই ওয়েল ফেয়ার স্টেটের মাধ্যমে শরিয়াহ’র মাকাসিদ গুলো পুরণ করা সম্ভব। হতে পারে জামায়াতে ইসলাম এমনটাই ভাবছে।
Mohammad Mozammel Hoque: আমি খুশি হতাম আপনি এখন যেটা বলছেন ঠিক একথাটাই যদি জামায়াতে ইসলামি ফরমালি এবং কনসিস্টেন্টলি বলতো।
