everything or nothing. not so so

everything or nothing. not so so। সবকিছু, অথবা কোনো কিছু নয়। দেখি না খানিকটা— এ নীতি আমার নয়।

আমি বরাবরই বিশ্বাস করেছি, নারী ও পুরুষের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সবকিছু থাকবে। অবাধ শারীরিক সম্পর্ক করার পূর্ণ অধিকার, সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব, অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন ও এই পারস্পরিক সম্মতিমূলক সম্পর্কের সামাজিক অবগতি। এসব কিছু নিয়ে যে সম্পর্ক হয়, এক কথায় তা হলো বিয়ে।

তারমানে, যাকে বিয়ে করবো না, বা বিয়ে করা যাবে না যাকে, তার সাথে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়।

হ্যাঁ, যে কোনো ধরনের ওয়ার্কিং রিলেশন থাকতে পারে। ইনফ্যাক্ট, থাকাই উচিত।

আমি বিশ্বাস করি, নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক হলো,

নিছক পরিচয়, অথবা প্রণয়। এর মাঝামাঝি কোনো কিছু, যেমন বন্ধুত্ব; আদৌ সম্ভব নয়।

যে প্রণয়, পরিণয়ে পূর্ণতা লাভ করে না, তা ক্ষতিকর। অনুচিত। এ ধরনের প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ না হওয়াই ভালো, হোক তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রণয়।

এখনকার ছেলে-মেয়েদের একটা বৃহৎ অংশ এক ধরনের বেসরকারী দাম্পত্য জীবন যাপন করে। বিয়েটা হলো দাম্পত্য জীবনের সরকারি স্বীকৃতি। এবং, প্রচলিত জাস্ট ফ্রেন্ড সিস্টেম আসলে এক ধরনের সোশ্যালি এপ্রুভড ফরম অব সফট পলিগ্যামি।

অতএব, কথা কিলিয়ার। নির্ভেজাল।

‌‘সবকিছু, অথবা কোনো কিছুই নয়’— এই নীতি মানতে গিয়ে জীবনে আমি অনেক ‌‘সেক্রিফাইস’ করেছি। আপনাদের জীবনে আপনারা এই নীতি মানবেন কিনা, সেটা আপনাদের ব্যাপার।

আমি কিন্তু কখনো লাইনে দাঁড়ানোকে পছন্দ করি নাই। এমনকি, এক নম্বর পজিশনে হলেও।

যে পথের শেষ পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব নয়, সে পথে ঘোরাঘুরি করা আমার ভীষণ না-পছন্দ।

‌‘ও কিছু না। আমার ওসব ফিলিংস হয় না। আমরা নির্দোষ বন্ধুত্ব চর্চা করছি’— এসব ফাও কথা বলার মতো ভাওতাবাজিকে আমি কখনো সমর্থন করি নাই।

এই দৃষ্টিতে আমি একজন বিশুদ্ধ বস্তুবাদী। ‌‘তেমন ফিলিংস হয় না’ টাইপের সাধুদের (?) তুলনায় আমি খুব খারাপ। আগেও ছিলাম। এখনো তাই।

বুঝতেই পারছেন, ভিতরে ভিতরে খুব খারাপ হওয়ার কারণে, যৌবনের ভরপুর সময়েও আমাকে বাধ্য হয়েই ভালো থাকতে হয়েছে। অবশ্য, এখনকার মতো তখন ‌‘খারাপ’ হওয়ার সুযোগ এতটা অবাধ ছিল না।

আমার মা পাশের বাসার মহিলাদের বলেছিলেন, ‌‘আমার ছেলে চাকরি পাওয়ার সাথে সাথে ওকে বিয়ে করাবো।’ হ্যাঁ, প্রথম মাসের বেতন হাতে আসার আগেই পারিবারিক চাপে কাবিননামায় আমাকে সাইন করতে হয়েছিল। ২১ জানুয়ারি, ১৯৯৪ সাল। তখন আমার বয়স সাতাশ চলছে।

এখন আফসোস করি, বিয়েটা আরো অন্তত এক দশক আগে হলো না কেন …! তাহলে তো এত মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট হতো না।

চাচ্ছি, এখনকার প্রজন্ম যেন, অন্তত আগামীর প্রজন্ম যেন অবদমনের এই আরোপিত অভিশাপ হতে মুক্তি লাভ করে।

সহজ বিয়ের পক্ষপাতী হওয়ার কারণে আমি বিয়েতে বাহুল্য খরচের ঘোর বিরোধী। নারী অধিকার, পারিবারিক ব্যবস্থা, বিয়ে ও যৌনতা নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছি। খুব শীগগিরই সেগুলোর সংকলন বের করবো, ইনশাআল্লাহ।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Leave a Reply