শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া বা না দেয়ার যুক্তি

প্রশ্ন:

শিশুদেরকে ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রোথিত করাটা আপনি মুক্তচিন্তার একটি বাধা মনে করেন কিনা? সেটা নৈতিক কিনা? এবং সেটা ইসলামিক কুরআন সম্মত কিনা? যদি হয় তাহলে তার স্বপক্ষে কুরআন এর রেফারেন্স দিবেন।

আপনার বক্তব্য অনুযায়ী মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই একত্ববাদী অথবা বিশ্বাসপন্থী। মানে, স্বাধীনভাবে সে যখন বেড়ে উঠে তখন সে এই বিশ্বাসের পথেই চলে আসে। তাহলে, যদি সম্পূর্ণ পৃথিবীতে শিশুদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ধর্মীয় বিশ্বাস প্রোথিত  করে না দেওয়া হয়, তাহলে পৃথিবীর ১০০% শিশুই সেই স্বাধীন পরিবেশ পাবে। যুক্তি অনুযায়ী, তখন একজন মানুষ জেনে বুঝে তার মতবাদ গ্রহণ করবে এবং শিশু অধিকার রক্ষা হবে।

এখন এই বিষয়ে আপনাদের দ্বিমুখী নীতি কেনো? সেটা সম্পূর্ণভাবে গোষ্ঠী স্বার্থরক্ষা এবং রাজনৈতিক ধর্মের একটা কৌশল। আমি সেরকমই মনে করি। কারণ, যদি মুক্তচিন্তাভিত্তিক True Secular Education System প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, তাহলে মানুষ তার প্রাকৃতিক ধর্মকেই গ্রহণ করবে এবং পৃথিবীতে যুদ্ধ বিগ্রহ অনেক মাত্রায় কমে যাবে। গণতন্ত্র রক্ষা পাবে। যেহেতু মানুষের প্রকৃতি অভিন্ন এবং মানুষের মৌলিক ধর্ম একটাই।

উত্তর:

‌‘শিশুদেরকে ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রোথিত করাটা আপনি মুক্তচিন্তার একটি বাধা মনে করেন কিনা?’— এই প্রশ্নটা একটা loaded question।

‘ধর্মীয় শিক্ষা’কে যদি আমরা ভালো কিছু মনে না করি, তাহলে তা শেখানো অবশ্যই খারাপ— এই অর্থে ধর্মশিক্ষাকে মুক্তচিন্তার পথে বাধা বলে কেউ মনে করতে পারে। সেক্ষেত্রে ‌‌‘মুক্তচিন্তা’ বলতে আমরা আসলে কী বুঝি, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মুক্তচিন্তা বলতে কেউ মনে করতে পারে, আমি বা আমরা যা কিছুকে ভালো মনে করি সেগুলো ছাড়া বাদবাকি সবকিছু খারাপ। বাস্তবতা হচ্ছে, এই ধরনের চিন্তা আসলে মুক্তচিন্তা নয়। অন্যদিকে, অপরাপর সবকিছু তো বটেই, নিজের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আবহ তথা প্যারাডাইমকেও প্রশ্ন করা ও যাচাইয়ের আওতায় রাখা, বাছবিচারহীন ও অন্ধভাবে কোনো কিছুকে গ্রহণ না করা, সবসময় সবকিছুকে বিবেক-বুদ্ধির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রহণ বা বর্জন করা— এই অভ্যাসটাকে আমরা মুক্তচিন্তা বলতে পারি।

শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে কোরআনের রেফারেন্স:

সুরা লোকমান, ১৬-১৯ আয়াত:

يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّـهُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ ﴿١٦﴾ يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ ۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ ﴿١٧﴾ وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّـهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿١٨﴾ وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ ﴿١٩

‍“হে বৎস! কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় আর তা থাকে পাথরের ভিতরে অথবা আকাশে অথবা যমীনের নীচে, আল্লাহ তাকে এনে হাজির করবেন। আল্লাহ সূক্ষ্ণদর্শী, সব কিছুর খবর রাখেন। হে বৎস! সালাত কায়েম করবে, ভাল কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, এটাইতো দৃঢ় সংকল্পের কাজ। অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করোনা এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করোনা। কারণ আল্লাহ কোনো উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং তোমার কন্ঠস্বর করবে নীচু; স্বরের মধ্যে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।”

সুরা ত্বহা, ১৩২ নং আয়াত:

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ

‍“আর তোমার পবিরার-পরিজনকে নামাযের নির্দেশ দাও আর তাতে অবিচল থাক। তোমার কাছে আমি রিযক চাই না, আমিই তোমাকে রিযক দিয়ে থাকি, উত্তম পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য নির্দিষ্ট।”

তাছাড়া, কোরআন ও হাদীসে ভালো-মন্দ, আদেশ-নিষেধ সংক্রান্ত যে সব সাধারণ নির্দেশ ও নির্দেশনা আছে, তার সবগুলোই সব ঈমানদার মানুষের জন্য প্রযোজ্য। দ্বিরুক্তি করে বললে, শিশু-কিশোরগণ তথা অপ্রাপ্তবয়স্ককরা এসব অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর আওতাবহির্ভূত (exempted) নয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে, শিশু-কিশোরগণ স্বভাবগতভাবেই মু’মিন তথা স্বভাবধর্মে বিশ্বাসী। বড় হওয়ার পরে তারা ছোটবেলার স্বভাবগত ধর্মে স্থিত হয়। অথবা, সেটাকে প্রত্যাখ্যান করে। কুফুরী করে। স্বভাবধর্ম হতে ফিরে যাওয়ার কারণ হতে পারে, সেই ব্যক্তি তার সমাজ ও রাষ্ট্র হতে প্রাপ্ত ভ্রান্ত সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষাকে সঠিক তথা for granted হিসেবে ধরে নিয়েছে। অথবা, সে স্বকীয়ভাবে চিন্তা করেছে, কিন্তু তার চিন্তাধারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে।

শিশুদেরকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা এর মধ্যে ইনক্লুডেড। এটি এ জন্য করতে হবে, যাতে করে মানব শিশুটির মধ্যে পটেনশিয়ালি যে সত্য-প্রবণতা আছে তা পরিণত বয়সে সহজে বাস্তব রূপ লাভ করে। এই অর্থে শিক্ষাপ্রদান করা হচ্ছে তাকে সহায়তা করা। indoctrinate করা নয়।

জাতিসংঘের সিআরসি ও ধর্মশিক্ষার ন্যায্যতা –

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের (CRC) কিছু বিষয় দ্বিমতযোগ্য হলেও এটি সর্বোপরি সমর্থনযোগ্য। এটি বরং ধর্মশিক্ষা নিয়ে ইসলামের পজিশনকেই সঠিক প্রতিপন্ন করে। কীভাবে, তা বলছি। এর আগে দ্বিমতের একটা বিষয় একটু বলে নেই।

সিআরসি’র এক নম্বর অনুচ্ছেদে ১৮ বছরের নিচে সব মানবসন্তানকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি প্রশ্নসাপেক্ষ। ইসলামের দৃষ্টিতে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার মানে হলো প্রজনন-ক্ষমতার অধিকারী হওয়া কিংবা এ ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের গড়পরতা বয়সসীমা অতিক্রম করে যাওয়া। জাতিসংঘের সনদে কীসের ভিত্তিতে ১৮ বছরের বয়সসীমা ঠিক করা হয়েছে, তা বলা হয়নি। প্রজনন ক্ষমতাকে বিবেচনা না করে যদি বুদ্ধিগত সক্ষমতা কিংবা অক্ষমতার বিষয়টিকে তারা বিবেচনা করে থাকে, তাহলে তো অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকেও আইনত শিশু বিবেচনা করতে হবে। অবশ্য এই ধারায় সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকে স্বীকার করে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সিআরসি’র ১৪ নং অনুচ্ছেদে ‘শিশুর চিন্তা, বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা’র কথা বলার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। এখানেও দেশের আইন ইত্যাদির কথা সংযোজন করা হয়েছে সেইফটি ক্লজ হিসেবে।

মজার ব্যাপার হলো, ৫৪টি মূলধারা ও অনেক উপধারা সম্বলিত এই সনদে যত কথা বলা হয়েছে তার কোনেটিই কিন্তু কোনো শিশুর কথা নয়। অর্থাৎ শিশুদের জন্য এই সনদ তৈরী করেছে বড়রা। শিশুদের জন্য ভালো মনে করে। শিখিয়ে দেয়া ছাড়া কোনো শিশুই তো স্বীয় বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্লোগান তোলে না, “প্রতিটি শিশুর আছে শিক্ষা গ্রহণের অধিকার”।

এ বিষয়ে সংক্ষেপে মূল কথা হলো, শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষাকে বা বিশেষ কোনো ধরনের ধর্মীয় শিক্ষাকে যদি বড়রা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মনে করে তাহলে সেই শিক্ষা দেয়া যাবে না বা দেয়া উচিত হবে না।

এ পর্যায়ে আমরা কথা বলবো শিশু শিক্ষা নিয়ে। শিশু শিক্ষা নিয়ে আমাদের ধারণাটা ক্লিয়ার থাকলে এ ব্যাপারে দ্বিমতের বিষয়গুলো কমে আসবে।

কারিগরি শিক্ষা তথা দক্ষতা অর্জনমূলক শিক্ষাকে বাদ দিলে শিক্ষা মাত্রই আরোপিত, এবং এই অর্থে ডগমেটিক। প্রতিটি মানুষকে যেভাবে শিক্ষা দেয়া হয় শিশুদেরকেও সেভাবে শিক্ষা দেয়া হয়। বড় হওয়ার সাথে সাথে যদি তাদের ক্রিটিকের থিংকিং ক্যাপাসিটি গড়ে উঠে তখন তারা ইতোমধ্যে প্রাপ্ত শিক্ষাকে বিশ্লেষণ করে সেটা থেকে উপকৃত হয়। ছোটদের ক্রিটিকেল থিংকিং তুলনামূলকভাবে নাঈভ বা স্থুল। শিশুরা অধিকতর সরলমনা ও রিসেপটিভ। তারা মূলত এডাপটেশনের মাধ্যমে শিখে। তৎসত্বেও, শিশু-কিশোরদেরও থাকে চিন্তা-ভাবনা করার মৌলিক ক্ষমতা। যেমনটা থাকে বড়দের। পার্থক্য এতটুকু, শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব বিষয় থাকে তুলনামূলকভাবে অবিকশিত অবস্থায়। ক্রমান্বয়ে সেটা বিকাশ লাভ করে।

তাহলে indoctrination বলে কি কিছু নেই?

এ পর্যায়ে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, শিক্ষামাত্রই বিশেষ করে শিশুশিক্ষা যদি হয় উচ্চতর পজিশন হতে নিম্নতর পজিশনের কাউকে নিজেদের চিন্তাভাবনা ও মতামতকে চাপিয়ে দেয়া, তাহলে education এবং indoctrination-এর মধ্যে আমরা কীভাবে পার্থক্য করবো?

এ ব্যাপারে আমার উত্তর হলো, শিক্ষা এবং দীক্ষা, এই শব্দ দু’টো যে আলাদা হয়েছে এর একটা গভীর তাৎপর্য আছে। এই শব্দ দু’টোর ভাবার্থ বা কনোটেশন ভিন্ন। এখানকার আলোচনাতে আমরা কথাটাকে এভাবে বলতে পারি, শিক্ষা বা এডুকেশন ইতিবাচক ভাবার্থ প্রকাশ করে। আর, দীক্ষা বা ইনডকট্রিনেশন নেতিবাচক ভাবার্থ প্রকাশ করে।

ধর্মীয় শিক্ষা হোক বা সাধারণ শিক্ষা হোক, শিক্ষা দেয়া হয় যাতে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সঠিকটাকে সহজে খুঁজে নিতে পারে। প্রশ্নকারীর বক্তব্যের শেষের অংশকে যদি আমরা আপাতত সঠিক ধরে নেই, তাহলে আমাদেরকে ‘মুক্তচিন্তাভিত্তিক True Secular Education system’ কায়েম করতে হবে।

কিন্তু, কেন? কেন আমাদের উচিত সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম করা? সেক্যুলার শিক্ষাটাই (যেমনটা সিআরসি’তে বর্ণিত হয়েছে) যদি হয় শিশুদের মানব চরিত্রের অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য, তাহলে তো তাদেরকে কোনো শিক্ষা দেয়ারই দরকার নাই। হেসে খেলে বড় হয়ে তারা আপনাআপনি সব ভালো কিছু জেনে যাবে। ‘ক্ষতিকর’ ধর্মশিক্ষা যেহেতু দেয়া হয় নাই, এই ধরনের ক্ষেত্রে তাদের মন-মানসিকতা তো ‘কলুষিত’ হওয়ার কথা না। মুক্তচিন্তার পরিবেশে তো শিশুদেরকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ছাড়া অন্য কোনো ধরনের শিক্ষা দেয়ারই দরকার হওয়ার কথা না।

অথচ, শিশুরা ঘুমানোর সময়টুকু বাদে প্রতি মুহূর্তে কনসিস্টেন্টলি একটা লার্নিং প্রসেসের মধ্য দিয়ে যায়। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষা প্রদান তথা ‘ইনডক্ট্রিনেশন’ ব্যতিরেকে শিশুদেরকে লালনপালন করা অসম্ভব। শিশু-শিক্ষার ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পার্থক্য তেমন ধর্তব্য কিছু নয়। সে যা দেখে তাই শিখে।

ধর্ম হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সেক্যুলার

শিক্ষা মাত্রই ধর্ম-চরিত্রের। আমি এটিকে বলেছি, ডগমেটিক ইন আ সেন্স। হোক সেটা ধর্মীয় শিক্ষা, হোক সেটা সেক্যুলার  শিক্ষা। পাশ্চাত্য বিশ্বে শিশুদেরকে ক্লাস ওয়ান হতেই খোলামেলাভাবে যৌন শিক্ষা দেয়া হয়। তাদের দৃষ্টিতে এটি জরুরী শিক্ষা। পরিবারভিত্তিক রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামোর আবহে, আমাদের দৃষ্টিতে এটি কুশিক্ষা। বরং, এক ধরনের ক্ষতিকর শিক্ষা তথা দীক্ষা বা ইনডক্ট্রিনেশন। আমাদের দৃষ্টিতে, বস্তুবাদী, ভোগবাদী ও যৌন-প্রবণ সমাজ ব্যবস্থার কারণে সেক্স এডুকেশনের নামে তারা কোমলমতি শিশুকিশোরদের সেক্সুয়ালি হাইপার এন্ড আ বিট পার্ভার্ট করে তুলছে। সোজা কথায়, সেক্সুয়েলাইজ করছে।

এ ধরনের আরো অনেক বিষয় এখানে আলোচনা করা যেতে পারে। এর মূলকথা হলো, যার যার বিশ্বদৃষ্টি অনুসারে প্রত্যেকে নিজস্ব সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষা ব্যবস্থাকে গড়ে তুলবে। বড়রা ছোটদেরকে নিজের মতো করে শিক্ষা প্রদান করবে। এর ব্যতিক্রম নাই। ফলে, সেক্যুলার এডুকেশন সিস্টেমে ‘সেক্যুলারিজম’ এক ধরনের আনঅর্গানাইজড রিলিজিয়ন হয়ে ওঠে।

কেন এমনটা হয়

জীবন ও জগত সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্নগুলো এতটাই মৌলিক, আমরা এগুলো সম্পর্কে কোনো নিরপেক্ষ পজিশন নিতে পারি না। We are ontologically bound to take a position, and each position is a biased and dogmatic position, compare to each of the remaining position.

একটা শিশু যখন কোনো বেসিক একজিসটেনশিয়াল কোয়েশ্চেন আপনাকে করে তখন আপনি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। এ ধরনের মৌলিক বিষয়ে নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে কারো পক্ষে সত্যিকারের কোনো নিরপেক্ষ উত্তর বের করা অসম্ভব। হোয়ারএজ, এ ধরনের প্রশ্ন করার জন্য শিশুদেরকে আপনি দোষারোপও করতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে জগত ও জীবনের উৎপত্তি, পরিচালনা ও পরিণতি সম্পর্কিত বিষয়ে খোদার অস্তিত্ব নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি।

ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়ে আপনি হতে পারেন আস্তিক, নাস্তিক, সংশয়বাদী, অজ্ঞেয়বাদী অথবা নির্বিকারবাদী। চাইলেই আপনি এগুলোর কোনো একটির বাইরে ‘স্বতন্ত্র’ বা ‘নিরপেক্ষ’ কোনো পজিশন নিতে পারেন না। এবং যখনই আপনি এই ‘উত্তর’ তথা রেসপন্সগুলোর কোনো একটাকে সঠিক ও ন্যায্য হিসেবে গ্রহণ করবেন, তখন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আপনি অপরাপর পজিশন তথা উত্তরগুলোকে কার্যত নাকচ করে দিতে বাধ্য হবেন।

অথচ, ফিলসফিকেলি প্রত্যেকটা পজিশনের পক্ষেই যুক্তি আছে। আপনার কাছে যে যুক্তিটাকে ভালো লাগে, অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়, সেটাকে আপনি ‘প্রমাণ’ হিসেবে গ্রহণ করেন। এতে করে, অন্যান্যদের দৃষ্টিতে আপনি নিজেকে একজন বেপথু ডগমেটিক ব্যক্তি হিসেবে প্রতিপন্ন করার ঝুঁকি গ্রহণ করেন।

কথাগুলো এজন্য বললাম, যাতে করে আপনারা বুঝতে পারেন, উপরের প্যারার আগের প্যারাতে আমি কেন বলেছি সেক্যুলার  এডুকেশনে ‘সেকুলারিজম’ ইট সেলফ একটা ধর্ম হয়ে ওঠে। এ নিয়ে এখানে আর বিস্তারিত আলোচনার দরকার আছে বলে মনে করছি না।

আশা করি, সংক্ষিপ্ত এই আলোচনা থেকে আমরা শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া বা না দেয়ার পক্ষ-বিপক্ষ যুক্তিগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা করতে পেরেছি। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি আমাকে ইনবক্সে মেসেজ করে এটি জানতে চেয়েছেন। তাই এই আলোচনা। এই সুবাদে ফিলসফি অব এডুকেশন নিয়ে আমরা খানিকটা আলোচনা করলাম।

এই লেখার ফেইসবুক লিংক

একটি মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকhttps://mozammelhq.com
নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

আরো পড়ুন

ধর্ম শিক্ষা দেয়া কারো পেশা হতে পারে কিনা

হ্যাঁ পারে। সেই শিক্ষা যদি নৈতিক দিক-নির্দেশনা বা আদর্শ প্রচারের কাজ না হয়। এ ধরনের নিছকই শিক্ষা যে কোনো বিষয়ে যে কেউ দিতে পারে।...

প্রশিক্ষক, শিক্ষক ও গুরুর মধ্যে পার্থক্য করতে না পারার ব্যর্থতা ও এর পরিণতি

ইসলামী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটা কমন প্রবলেম আমাদের এখানে দেখা যায়। সেটা হচ্ছে, নিজেদের লোকদের বাইরে তারা কারো কথা শুনতে চায় না। কেউ মনে করতে...