পদ্ধতি ও পরিণতি হিসাবে সংশয়বাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্যায়ন

সংশয়বাদ যখন পদ্ধতি তখন তা জ্ঞানচর্চার জন্য অপরিহার্য। ইতোমধ্যে থাকা বা প্রাপ্ত কোনো বিষয়ে সন্দেহ, সংশয়. আপত্তি কিংবা অভিযোগ না থাকলে মানুষ কেন অনুসন্ধান ও যাচাইয়ে প্রবৃত্ত হবে? সংশয় খণ্ডন করে নিশ্চিতি লাভের জন্যই মানুষ জ্ঞান চর্চা করে। অতএব skepticism as a method হিসাবে যে সংশয়বাদ তা কাম্য ও ভালো। আবার কোনো বিষয়ে সব প্রাপ্ত যুক্তি ও তথ্যকে যাচাই করার গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা জ্ঞানকে মেনে না নিয়ে যদি এমন দাবী করা হয় যে, বিষয়টির অনুসন্ধান সম্পূর্ণ হয় নাই। তাই ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়। তখন জ্ঞানতাত্ত্বিক বলবে, আমি তো প্রাপ্ত বা উপস্থাপিত সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়েছি, তাহলে কেন ফলাফলকে নিশ্চিত হিসাবে তথা জ্ঞান হিসাবে গ্রহণ করবো না? এর উত্তরে সংশয়বাদী বলবে, যেসব বিষয় তুমি পেয়েছ তার বাহিরেও এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় যে নাই তা তো নিশ্চিত করে বলতে পারছোনা। 

অতএব এ বিষয়ে সবকিছুকে যাচাই করা হয় নাই বিধায় প্রাপ্ত ফলাফলকে নিশ্চিত বলা যাবে না। এই ধরণের সংশয়বাদের সাথে জ্ঞানতত্ত্বের স্থায়ী বিরোধ। এখানে সংশয়বাদকে পরিণতি হিসাবে (skepticism as an end) গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থে যে সংশয়বাদ তা যে ঠিক নয় তার যুক্তি এ রকম: আমরা জানি, burden of proof তার ওপরই বর্তায় যে এটি দাবী করে। সংশয়কে যিনি পরিণতি বা লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করেছেন তিনি কোনো বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের বাইরে ‘আরও কিছু’ থাকার দাবী করেন, অথচ এই ‘আরও কিছু’ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে তিনি কিছু বলতে পারেন না। তার এই অদ্ভূদ দাবীর ভিত্তি হলো ততধিক অদ্ভূদ অনুরূপ এই দাবী যে, ‘আরও কিছু’ যে নাই তা তিনি অর্থাৎ জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রমাণ করুক।

এখানে সংশ্লিষ্ট সংশয়বাদী open ended class এর প্রমাণ-পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন। অথচ যাচাইকরণের ক্ষেত্রে open ended class একটা fallacy। একটি কক্ষে কী জিনিস আছে তা গোনা সম্ভব। কী জিনিস নাই, তা গোনা অসম্ভব। এ বিষয়ে close ended class পদ্ধতিই হচ্ছে জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি। প্রাপ্ত যুক্তি, তথ্য ও উপাত্তের সাথে সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনে নতুন যুক্তি, তথ্য ও উপাত্ত হাজির হলে জ্ঞানতাত্ত্বিক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে হিসাব করবেন। তাতে আগের ফলাফল পরিবর্তন হলে তা তিনি মেনে নিবেন। মোটকথা হলো, জ্ঞানতাত্ত্বিক যাচাইকরণের ক্ষেত্রে বস্তুগতভাবে উপস্থিত এবং বাস্তবিকই সম্ভাব্য এমন কোনাকিছুকে বাদ দেয়া হবে না। আবার যা নাই এবং ভবিষ্যতে হাজির হওযারও কোনো বাস্তবসম্মত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তার জন্য অপেক্ষা করা হবে না বা তাকে বিবেচনায় নেয়া হবে না।

এ ধরনের আরো লেখা

ইন্ডিভিজুয়ালিজম ও ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র প্রশ্ন করেছেন: ‍“স্যার, আমি ইন্ডিভিজুয়ালিজম আর...

ইন্ডিভিজুয়ালিজম আর ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য

একটু আগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র প্রশ্ন করেছেন: ‍“স্যার, আমি...

মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকhttps://mozammelhq.com
নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

মেয়েদের চাকরি করা বা না করার সুবিধা-অসুবিধা ও কর্মজীবী নারীদের সংসার জীবনের ভালোমন্দ

“কর্মজীবী মহিলা যারা সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার জন্য চাকরি...

ভিক্টিম ব্লেইমিং কী কেন কখন করা বা না করা

সাধারণত কোনো নারী যখন কোথাও ভিক্টিমাইজড হয় তখন সাধারণত...

মুসলিম নারীদের পোশাক প্রসঙ্গে একটি আলাপচারিতা

আলোচনার প্রেক্ষাপট: ‘নারী অধিকার প্রসঙ্গে শরীয়াহর নির্দেশ বনাম নির্দেশনা’...

‘জামায়াতে ইসলামী: অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন’: ভূমিকা

পর্ব-১ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ কেন ও কীভাবে শিবিরে যোগদান আমি ছিলাম একরোখা,...