আমার আমি। তাকে আমি কীভাবে জানি?

আমার আমি। তাকে আমি কীভাবে জানি?

বলা হয় আমাদের চেতনসত্তা আমাদের মনের শতকরা ৫ ভাগ মাত্র। বাদবাকী শতকরা ৯৫ ভাগ অবচেতনের দখলে। এ’যেন এক ভিন্নমানুষ, অচিনপুরের নাগরিক। এই যখন হাল তখন আমাদের অবস্থা আসলে কেমন তা কি ভাবতে পারেন? এমনকি, ভাবলেও কী করা? আপনার আমার ভাবনার বিশভাগের উনিশভাগই কাজ করে অবচেতন স্তরে।

এ পর্যায়ে আমরা একটা উভয় সংকটের সম্মুখীন হই।

যে বিষয়ে আমি সচেতন নই সে বিষয়ে কেন আমাকে দোষারোপ করা হবে? ‘আামি’ বলতে তো আমরা সাধারণত আমাদের সচেতন সত্তাকেই বোঝাই। অন্যদিকে, আমাদের কার্যক্রমের শতকরা ৯৫ ভাগকে যদি আমরা দায়-দায়িত্বের ঊর্ধ্বে রাখি তাহলে তো সমাজ, সংসার, নিয়মকানুন সব ভেঙে পড়বে। কাউকে অলমোস্ট কোনো কাজের জন্যই দায়ী করা যাবে না।

অবচেতন হল মনের অন্ধকার কক্ষ। বাই ডেফিনেশন, আমরা অন্ধকারে দেখি না। অন্ধকারে দেখার জন্য যখন আমরা আলো জ্বালাই তখন অন্ধকার আর অন্ধকার থাকে না। এমনকি, অন্ধকারে যখন আমরা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠি তখনও আসলে অন্ধকারের ভিতরে যে স্বল্প আলো আছে সেটার আলোকেই আমরা যতটুকু দেখার তা দেখি।

কেন আমাদের মনের সচেতন এবং অবচেতনের এই ভাগাভাগি সেটার সঠিক উত্তর কারো কাছে নাই। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এই অর্থে, এটুকু আমরা বুঝতে পারি, যুক্তি-বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে আমরা আমাদের মনের অবচেতন স্তরকে জানতে এবং সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

আমার সচেতন কাজকর্ম এবং কাজের মূলনীতির সাথে যদি আমার অবচেতন থেকে আসা কাজকর্মের সামঞ্জস্য না থাকে তাহলে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের অবচেতন স্তরে কিছু একটা গন্ডগোল হচ্ছে। ভেতরে না কেটে স্ক্যান করে ভেতরকার গণ্ডগোল বের করার মতো যুক্তি-বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে আমরা ফিগার-আউট করতে পারি, ঠিক কোন জায়গায় কেন সমস্যা হচ্ছে।

এ’বার আসুন, সমাধানের প্রসঙ্গে।

মনের সচেতন অংশ হচ্ছে ড্রাইভিং ফোর্স। সচেতনভাবে আমরা যা করি আমাদের অবচেতনে তার ছাপ তৈরী হয়। ক্লাসিকাল কন্ডিশনিংয়ের মতো অবচেতন ও সচেতন পরষ্পর পরষ্পরকে নিয়ন্ত্রণ করে। সচেতন কার্যকলাপের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবচেতনের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারি।

আমাদের নীতি ও মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যশীল কাজ যখন আমরা বারংবার করতে থাকি তাহলে আমাদের অবচেতন মন তথা নফস সেই চাপকে এক পর্যায়ে গ্রহণ করে নেয় এবং তদনুযায়ী ফাংশন করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

তা না করে আমাদের অবচেতন মন তথা প্রবৃত্তিকে যখন আমরা আমাদের চালকের আসনে বসাই তখন আমাদের জ্ঞান এবং যুক্তিকে সে মেনুপুলেইট করে নিজের মতো করে ব্যবহার করে। আমাদের কগনিটিভ ক্যাপাসিটি ও ফাংশনালিটির ভিতরে সে কিছু ব্লাইন্ড স্পট এবং হোল তৈরি করে।

আমাদের অবচেতনে তৈরী হওয়া কগনেটিভ ব্লাইন্ডস্পটগুলোকে আইডেন্টিফাই করার একমাত্র টুল হলো ক্রিটিকাল থিংকিং। ক্রিটিকাল থিংকিংয়ে অভ্যস্ত হওয়া।

খুব সংক্ষেপে, ক্রিটিকাল থিংকিং মানে শুধু সমালোচনা বা জটিল চিন্তা নয়। বরং সামগ্রিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ইতিবাচক চিন্তা। ইংরেজিতে বললে, critical thinking is holistically consistent positive thinking.

Let’s do it.

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *