বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার খাতা পুনঃপরীক্ষণ ও নিরক্ষণে অসুবিধা কী?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র শুনলাম আজকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, কোনো একটি কোর্সে তার অস্বাভাবিক ফলাফল আসায়। শুনে অত্যন্ত খারাপ লাগলো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগে চতুর্থ বর্ষ বিএ সম্মান ২০২৩এর রেজাল্ট আমি দিয়েছি এই ঈদের বন্ধের আগে। একজন স্টুডেন্ট একটা বিষয়ে ফেইল করার পরে যখন আমাদের সাথে যোগাযোগ করলো তখন আমরা কাগজপত্র চেক করে দেখলাম, আমাদেরই ভুল।

বছর কয়েক আগে একবার আমি একটা পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে এরকম আরেকজন স্টুডেন্টের দাবির কারণে তার খাতা বের করে চেক করি। তাতে দেখতে পাই একটা প্রশ্নের উত্তরে একজন পরীক্ষক কোনো নম্বর দেননি। পরে সেই সহকর্মীকে বিষয়টা জানালে তিনি সংশ্লিষ্ট নম্বরফর্দটি সংশোধন করে দেন। অতঃপর সংশোধিত ফলাফল প্রকাশিত হলো এবং স্টুডেন্টটি পাস করলো।

খাতা, মার্কশিট ইত্যাদি চেক করে আমি যে স্টুডেন্টদের হেল্প করেছি, সেটা করার জন্য আমি আইনত বাধ্য ছিলাম না। তবুও করেছি।

একটা খাতা দুইজন পরীক্ষক পরীক্ষা করে গড়ে নম্বর দেওয়ার এই সিস্টেমটা দুনিয়ার কোথাও নাই। আছে শুধু বাংলাদেশের স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

পরীক্ষা এবং ফলাফল প্রকাশের পরে খাতা স্টুডেন্টরা যদি একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখতে পারে তাহলে তাদের কিংবা শিক্ষকদের কী ভুল হয়েছে সেটা সহজে নির্ণয় করা সম্ভব। এবং এই ধরনের পরীক্ষণ ব্যবস্থায় দু’জন পরীক্ষকের দরকার থাকে না।

মাস কয়েক আগে চবি একাডেমিক কাউন্সেলে উত্তরপত্র পূণঃপরীক্ষণ ও নিরীক্ষণের একটা প্রস্তাব প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। শিক্ষকরা রাজি না হওয়ায় সেটি পাস হয় নাই। বিশ্ববিদ্যালয় বহু শিক্ষক আছে যারা উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি তথা rubrics কথাটা জীবনে শোনেননি।

জানা একটা ব্যাপার, পড়ানো আর একটা ব্যাপার। মূল্যায়ন করা তথা assessment system এই দুইটার চেয়ে ভিন্ন ব্যাপার। এগুলো না জেনেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়স্থ আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মীদের অনেকেই এক একজন বড় বড় পন্ডিত দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসে আছেন।

তাদের আহামরি ভাব দেখে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার মাথায় আসে না, একটা পূর্ণ কোর্সে পুরো সেমিস্টার/সেশন জুড়ে পাঁচ-সাতটা ক্লাস করে কীভাবে পরীক্ষা হতে পারে?

আমার বুঝে আসে না। আরো কতজন ছাত্রছাত্রীর জীবন নষ্ট হলে, কীভাবে কিংবা কবে ‘কুম্ভকর্ণ’দের ঘুম ভাঙবে, আমি জানি না।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Ibrahim Hossain: ক্লাসে ১০০+ ছাত্র ভর্তি করিয়ে উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টানলে হবে?

Assessment Principles and Assessment Literacy নিয়ে পড়াশোনা করছি প্রায় দশ বছর কিন্তু এই বিষয়ের কোনো সুরাহা করতে পারছি না। পৃথিবীর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বিভাগে ১২০-১৩০ জন ছাত্র ভর্তি করায়? বানিয়ে রাখছেন হাই স্কুল নাম দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়! কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন।

Alamin Faruq: বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের মুখে শুনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচাররা নাকি ক্লাস করানোর জন্য নিয়োগ হন না; উনারা নাকি গবেষণার জন্য নিয়োগ হন। এই হিসাবে শিক্ষকরা কেবল গবেষণা করলে শিক্ষার্থীদের এত পরীক্ষা নীরিক্ষার প্রয়োজন কি?

Mohammad Mozammel Hoque: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষক হিসেবেই নিয়োজিত হয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গবেষণাধর্মী এবং গবেষণানির্ভর। তৎসত্ত্বেও গবেষণা হলো শিক্ষকদের দ্বিতীয় দায়িত্ব। গবেষণা করলে তারা পুরস্কৃত হবে, না করলে তারা পুরস্কৃত হবে না, ব্যাপার ঠিক এতটুকু। যে বেতন ভাতা আমরা পাই তার সবটুকু ক্লাস করানোর জন্যই পেয়ে থাকি।

Mosharef Bhuiyan: কতটা প্রশ্নের জন্য কতটা উত্তর দিতে হয় তা টেবুলেটরগণ ভেরিফাই করা উচিত। পরীক্ষক ভুল করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় আবশ্যক পাঁচটা দেয়ার কথা। ভুলে ছাত্র ছয়টার উত্তর দিয়েছে। পরীক্ষকও মাঝে মধ্যে ভুল করে ছয়টির নম্বর দিয়ে থাকে।

Mohammad Mozammel Hoque: ভুল তো মানুষের হতেই পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, কেউ কিছু জানতে পারবে না, এটা কেমন কথা?

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *