গতকাল এক মিশ্রঅভিজ্ঞতা হল। ছাত্রজীবনের এক সিনিয়র দায়িত্বশীল ভাই। তিনি সাংগঠনিক সফরে এসছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাকে ফোন করে যেতে বললেন। গেলাম। দেখলাম, জামায়াতে ইসলামীর একটা দায়িত্বশীল সমাবেশ চলছে। উনার পাশে বসলাম। প্রশ্ন-উত্তরসহ উনার বক্তব্য শুনলাম মনোযোগ দিয়ে। বহুদিন পরে।
খুব ভালো লাগেছে। মনে হলো, যেন ফিরে গেছি সেই ৩৫ বছর আগেকার সময়ে। আন্দোলনমুখর ছাত্রজীবনের উত্তাল দিনগুলোতে। অন দা কন্ট্রারি,
খুব খারাপ লাগলো এটি দেখে, দেড় ঘন্টার সেই প্রোগ্রামে সকল আলোচনা প্রশ্নোত্তর বক্তব্য সবকিছু হলো হালনাগাদের রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে। মানুষের সামগ্রিক জীবন, রাজনীতি বাদে ইসলামের অন্যান্য দিক, এগুলোও যে উনাদের কাছে সমগুরুত্বপূর্ণ, এটি বোঝার কোনো উপায় সেখানে ছিল না।
জামায়াতে ইসলামি এখন পুরোদস্তুর একটা রাজনৈতিক দল। আমরা যারা ছাত্রশিবির করেছি, জামায়াতে ইসলামী করেছি, আমাদের তখনকার আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল, এটি একটা পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন। তখনো রাজনীতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করা হলেও তখনকার সময়ে রাজনীতিকে ঘিরে পুরো সংগঠন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আবর্তিত হতো না।
বোকার মত কেউ আবার মন্তব্য করতে আসিয়েন না, ‘মোজাম্মেল স্যারের’ সংগঠনকে ঠিকমতো বোঝেননি। রোকন না হলেও আমি ছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম দায়িত্বশীল। আর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য হিসাবে দায়িত্বপালন করেছি প্রায় চার বছর।
জামায়াত-শিবিরের, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর এই ধরনের সর্বাত্মক রাজনৈতিকীকরণ, এইটা আমি কখনো মানতে পারি নাই। রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কিছু লোকের সেটি করা উচিত মনোযোগ দিয়ে। হক আদায় করে। আইডিওলজিক্যাল ব্যাগেজ নিয়ে পাওয়ার পলিটিক্স করা, এইটা এক উদ্ভট ফর্মুলা। এতে করে এক পর্যায়ে আইডিওলজি কিংবা পলিটিক্যাল এচিভমেন্ট, দুইটার কোনো একটি ক্ষতিগ্রস্ত হবেই হবে!
খারাপ লাগছে এটি দেখে, জামায়াতে ইসলামী এখন স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। অথচ ‘সাংগঠনিক মজবুতি’ বলতে আমরা যে জিনিসগুলোকে বুঝতাম, সেগুলোর দিক থেকে দেখলে এটি স্পষ্ট, জামায়াতে ইসলামীর সংগঠন এখন স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দুর্বল!
আদর্শ আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জামায়াতে ইসলামীর ঝোঁক ক্ষমতার দিকে। এই ভারসাম্যহীনতার খারাপ প্রভাব, আল্লাহ মাফ করুক, দৃশ্যমান না হয়ে পারে না …!
pareto principle এর মত এটি (আমার) একটা সূত্র হলো ‘যতটা, ততটা নয়’। এই সুত্র অনুসারে বলা যায়, জামায়াতে ইসলামি যতটা ভালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে, ততটা ভালো করবে না। এর বিপরীতে, তারা যতটা খারাপ করবে বলে মনে করা হচ্ছে, ততটা খারাপ তারা করবে না। তারা থাকবে, ক্ষমতার ভারসাম্যশক্তি হিসেবে।
ক্ষমতার নেপথ্য কিংবা ভারসাম্যশক্তি হিসেবে থাকা ছিল তৎকালীন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের দোয়া। আমি নিজে এই দোয়ায় উনার পেছনে শরিক হয়েছি জীবনে বেশ কয়েকবার।
মানুষের জীবনে অতীত থাকে। অতীতকে সে ভুলে যায়, অস্বীকার করে। অথবা, অতীতের স্মরণে পড়ে থাকে। নস্টালজিক হয়। সমস্যা হয় তখন যখন সে অতীতের পথে চলতে পারে না। আবার ফেলে আসা অতীতকে সে ভুলতেও পারে না। জামায়াত ইসলামী, বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ে আমার অবস্থা ঠিক এ’রকম।
সংগঠন ও সংঘবদ্ধতা তথা synergy’র বরকত আমি বুঝি। রাজনীতির গুরুত্ব নিয়ে আমি বক্তব্য দেই। সেমিনার করি। তৎসত্ত্বেও আমি মনে করি, রাজনৈতিক সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হয়।
সিস্টেম যখন গণতান্ত্রিক তখন আদর্শের রাজনীতির কথা বলে বাস্তবে পাওয়ার পলিটিক্সে এনগেইজ হওয়া, এটা হচ্ছে সোনার পাথর বাটির চাওয়ার মতো ভুল পন্থা। ফ্যান্টাসি। এগেইন, রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিবৃত্তির ময়দান, সামাজিক পরিসর, সাংস্কৃতিক জগত ও ধর্মীয় অঙ্গন, এ’গুলোও সমগুরুত্বের দাবীদার।
রাজনীতি দিয়ে, প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে আপনারা কি সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় অঙ্গনের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে পারবেন? না, পারবেন না।
ছাত্রজীবনে এবং আরলি টিচিং লাইফে আমি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্বপালন করেছি। কিন্তু মনে করি না যে আমি তখন ‘রাজনীতি করা’ বলতে যা বোঝায় সেটি করেছি। দাওয়াত, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, সমাজসেবা ও বিপ্লব, এই পাঁচ দফা কর্মসূচির অন্যতম পঞ্চম দফার অংশ হিসেবে আমরা রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা ‘পার্টি করি’ নাই। প্রচলিত অর্থে ‘পলিটিক্স করা’ বলতে যা বুঝায়, সেটা কখনো করি নাই। আমরা যা করেছি তা সব সাংগঠনিক দায়িত্ব মনে করেই করেছি।
কথা পরিষ্কার, যারা রাজনীতি করছেন তারা সেটি মনোযোগ দিয়ে করেন। হক আদায় করে করেন। পাওয়ার পলিটিক্সের ডিনামিক্স বুঝে, গেইম থিওরির নীতি-কৌশলগুলোকে মেনে 24/7 দায়িত্ব হিসেবে পলিটিক্স করেন। তা না করে এখন আপনারা যে রাজনীতি রাজনীতি খেলছেন, এটির পরিণতি ভালো কিছু হওয়ার কথা নয়।
ভাবছিলাম, জামায়াতে ইসলামী নিয়ে জীবনে আর কোনোদিন কিছু লিখব না। তবুও লিখলাম। গতকালকের, যেমনটা বলেছি, একটা মিশ্রঅনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
দিনশেষে আমরা সবাই আল্লাহর বান্দাহ। ইসলাম আমাদের জীবনদর্শন এবং জীবন যাপনপদ্ধতি। নবী মুহাম্মদ (স.) আমাদের পথপ্রদর্শক। কুরআন আমাদের হেদায়েত। হাদিস আমাদের জীবনপথের দিশা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, রহম করুন, নেক নিয়তে করা আমাদের সকল আমল কবুল করুন, আমীন!
মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য
Ohidul Islam Khoka: ইদানীং এরকমই মনে হবে। কারণ, এখন সময়টা ওইরকমই। আপনি যে বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরের ঘাটতির কথা বলছেন সেটা ঠিক। ধারণা করছি; নির্বাচনোত্তর তারা এসব নিয়ে ভাবতে চাচ্ছেন। যদিও এসব কাজও সমান্তরালে জারি রাখা ভীষণ জরুরী।
Mohammad Mozammel Hoque: তারা কখনোই সঠিক ভাবনা এবং সঠিক কাজটা করার ‘উপযুক্ত সময়’ খুঁজে পাবে না। আমি আপনার সাথে বাজি ধরতে পারি।
Nur Alam Siddique: জামায়াতের আধ্যাত্মিকতার চর্চার বিষয়টা নিয়ে আরেকটা লেখা দিবেন। তারা ইহজাগতিক চিন্তায় আপাতত মগ্ন মনে হচ্ছে, আধ্যাত্মিকতা না থাকলে ইসলাম ও এর হাকিকত থেকে মানুষ দূরে সরে যাবে।
Mohammad Mozammel Hoque: আধ্যাত্মিকতার চর্চা এখন বিরল। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর মত দলগুলোর কাছে আধ্যাত্মিকতা এক ধরনের টক্সিক জিনিস। অথচ ইসলামের মূল আবেদন হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা। এখন আধ্যাত্মিকতা এবং রিচুয়াল পারফর্ম করাকে সমর্থক বলে মনে করা হয়। এটি ভুল।
ভন্ড সুফি এবং মাজারপন্থীদের কারণে স্পিরিচুয়ালিটি এখন এক ধরনের বিস্মৃত এবং পরিত্যাজ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ব্যাপারটা দুঃখজনক।
Sakib Khan: গঠনমূলক। আপনারা এভাবে পথ দেখালে ভাইয়েরা পথ হারাবেনা ইনশাআল্লাহ।
Mohammad Mozammel Hoque: আমরা তো ডাকলেই যাই। নিতান্ত সৌজন্যতা হিসেবেও কেউ তো কখনো ডাকলো না, কোনো মতামত পর্যালোচনা পরামর্শে শোনার জন্য। কেউ ডাকার মতো গরজ করে না। হয়তো আমরা এখনো উপযুক্ত হই নাই। কী জানি…!
হাসান মুমিন: আপনারা যখন সংগঠন করেছেন, তখন রাজনীতি করার অধিকার এবং সুযোগ ছিলো সংকুচিত। তাই আধ্যাত্মিক চর্চা আর দাওয়াতে দ্বীন ছিলো মূখ্য। এখন আল্লাহর রহমতে মাঠে ময়দানে রাজনীতি করার সুযোগটা হাতে এসেছে। এটাও আল্লাহর নেয়ামত। এখন সে নেয়ামতের সঠিক চর্চা করে ইসলামি রাষ্ট্রের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়াটা কেন আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না, ঠিক বুঝলাম না।
জামায়াত কি এখন শুধু রাজনীতিই করছে? কোরআন হাদিস চর্চা, তরবিয়ত, শববেদারি, ইকামাতে দ্বীনের দায়িত্ব অবহেলা করছে কি? আমার কাছে তা মনে হচ্ছে না। বরং সময়ের প্রয়োজনে প্রায়োরিটিটা হয়তো একটু এদিক ওদিক হয়েছে। আমি জামায়াতকে নির্ভুল সংগঠন মনে করি না। তারপরও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের আবদান স্বীকার করতেই হয়।
Mohammad Mozammel Hoque: “সকল মুমিনের একসঙ্গে বাহির হওয়া উচিত নয়। তাদের প্রত্যেক দলের একাংশ বেরিয়ে যাক জ্ঞান অন্বেষণে (ধর্মের বিষয়ে), যাতে তারা ফিরে এসে তাদের সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারে, যেন তারা সতর্ক থাকে।”
— সূরা আত-তাওবা (৯:১২২)
কোরআনের এই আয়াত অনুসারে আমরা দেখতে পাই, ইসলামের মধ্যে পাশ্চাত্য দুনিয়ায় যাকে think tank system হিসেবে বলে সেরকম জ্ঞান গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার নির্দেশনা দেওয়া আছে।
এরকম কি কোনো কিছু আছে বলে আপনার মনে হয়? Are they open to the criticism?
The extent to which a system can withstand criticism indicates its sustainability.
Şehadet Hüseyin: গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, নসীহা হিসেবে নিতে পারে দায়িত্বশীলরা।
Mohammad Mozammel Hoque: ৩২ বছর ফিলসফির মত একটা তাত্ত্বিক সাবজেক্টে শিক্ষকতা করলাম। তারপরও দায়িত্বশীলরা কখনো ডেকে জিজ্ঞেস করেন নাই, আপনার কী মত? অথবা চ্যালেঞ্জ করেন নাই, আপনি কেন এগুলো বলছেন? as if I don’t exist intellectually! I don’t know, why…!
Imam Hossain: নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস ওপারেতে স্বর্গ সুখ আমার বিশ্বাস। আপনার লেখাটি পড়ে বুঝলাম জামায়াত সারাজীবন অন্যদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হয়ে থাকবে কিন্তু ভুলেও কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তাও করতে পারবে না। আপনি জামায়াতকে যেভাবে দেখতে চান জামায়াত কি আদৌ সেই ভাবে থাকার সংগঠন?
আমার মনে হয় না।
Mohammad Mozammel Hoque: যাদের লক্ষ্য থাকে ব্রোকার হওয়ার, তারা কনজিউমার হবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। তাই না?
মধ্যস্থতাকারী খুব বিরল ঘটনা বাদে কখনো পক্ষ হয়ে ওঠে না। পক্ষ হওয়ার জন্য থাকা দরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং বাস্তব কর্মপন্থা।
M Ataur Rahman: আপনার লেখাটি পড়লাম৷ এবং গঠনমূলক সমালোচনায় ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম৷ সংগঠনের বর্তমান ময়দানের অবস্থার আলোকে শ্রদ্ধার সাথে আংশিক দ্বীমত পোষন করছি৷
বর্তমানে সংগঠন রাজনীতিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এই বার্তাটি আপনি পেয়েছেন জনশক্তিদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ৷ বর্তমানে ময়দানের জনশক্তিরা দায়িত্বশীলদের কাছে পেলেই রাজনীতি সম্পর্কে বেশী কনসার্ন থাকে একথা সত্য ৷ এবং অন্যান্য সময়ের তুলনায় সংগঠনও আনুপাতিক হারে রাজনীতি একটু বেশী করছে এটাও সত্য ৷ তবে আপনি যে হারে আশংকা প্রকাশ করেছেন সে হারে বিষয়টি সত্য নয় ৷
যারা সরাসরি ময়দানে কাজে রত তারা বিষয়টি ভালো করেই উপলব্ধি করছে৷ যেমন, গত ১৪ ই জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাংগঠনিক ও বায়তুলমাল পক্ষ ঘোষিত ছিল৷ এই পক্ষে অধস্তন শাখাগুলো ইউনিট পর্যায় পর্যন্ত সার্কুলারের কর্মসূচির আলোকে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করেছে এই কর্মসূচিতে রাজনীতির হার ছিল ০%৷ মাসিক নিয়মিত বৈঠককাদী, নিয়মিত দাওয়াতী কাজ এবং রিপোর্টিং নিয়মিত প্রশিক্ষনমূলক প্রোগ্রামাদী একটারও ছন্দপতন হয় নি। বরং আগের চেয়ে অধস্তন শাখা পর্যায় পর্যন্ত জনশক্তি ও দায়িত্বশীলদের ব্যস্ততা বহুলাংশে বেড়েছে ৷
নির্বাচনের বছর হিসেবে হয়তো নির্বাচনমুখী কাজ কিছু বেড়েছে৷ তবে গণমুখী সামাজিক কাজের ব্যয় অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে কয়েকগুন বেড়েছে৷ অনুরোধ থাকলো কোনো একটি সক্রিয় শাখাকে একটানা তিনটি মাস আপনার গবেষণার স্বার্থে তদারকিতে রাখুন আশা করছি আপনার ধারণা শতভাগ পরিবর্তন হবে না বটে আংশিক হলেও পরিবর্তন হবে৷
আপনার সদয় দৃষ্টির জন্য আরেকটু যোগ করি আপনি যে দলকে পূর্নাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন হিসেবে দেখতে চান বা ভালোবাসেন সে দলটি এখনো পূর্নাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন হিসেবেই আছে, এটি সরাসরি ময়দানে থাকার উপলব্ধি থেকে বললাম৷ আপনারা আশাহত হলে আমরা হারিয়ে যাবো৷ আপনারা আশা দেখালে আমরা দীশা পাবো৷ আবারও জাযাকাল্লাহ খায়ের ৷
Mohammad Mozammel Hoque: ভাই শোনেন, ‘নির্বাচনের বছর’, ‘মোকাবেলার বছর’, এভাবে সময় কোন দিকে কী, এইটা বিবেচনা করে এমনকি দরসে কুরআনের জন্য আয়াত সিলেকশন থেকে শুরু করে আলোচনার টাইটেল নির্ধারণ করা হয়। রাজনীতি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু। একটা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক দলের জন্য সেটা ঠিক আছে।
কিন্তু একটা আদর্শবাদী দলের জন্য সেটা ঠিক না। সব সময় শর্ট টার্ম স্বার্থ দেখতে গিয়ে এক সময়ে ‘জাহাজ’ সম্পূর্ণ ভুল পথে চলে যায়। সেজন্য মাঝে মাঝে এবং নিয়মিতভাবে ফাউন্ডেশন তথা গোড়ার সাথে সবকিছুকে মিলিয়ে দেখতে হয়। প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়। এটুকু আমার কথা।
Md. Raju Khan: আপনার অনুভূতিটা মোটেও ভুল নয়। ধর্ম আর রাজনীতি সম্পূর্ণ দুটো ভিন্ন জিনিস। একই সাথে দুটো জিনিস চলতে পারেনা। আর চললেও যে কোন একটা দিকে ঝুঁকে যেতে হয়। আপনার মত আমিও এই বিষয়টাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতেছি।
Mohammad Mozammel Hoque: ধর্মের লোকেরা ধর্মের কাজ করবে, রাজনীতির লোকেরা রাজনীতির কাজ করবে, সংস্কৃতির লোকেরা সংস্কৃতির কাজ করবে, সমাজসেবা করার লোকেরা সমাজ সেবায় নিয়োজিত থাকবে, বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার লোকেরা বুদ্ধিবৃত্তি চর্চায় নিয়োজিত থাকবে, এইভাবে করে একটা বাগান গড়ে উঠবে। এই সামগ্রিক বাগান হল ইসলামী আন্দোলন। শুধু একটা কিছু বৃক্ষ দিয়ে তো একটা বাগান হয় না! তাই না?
Mohammad Arman Zaid: আপনার বিশ্লেষণকে স্বাগত জানাই। তবে একটি কথা বলে রাখি যেভাবে বিশ্লেষণ করুন না কেন আমাদের দরকার আজকে একজন এরদোগান এবং তার রাজনীতি। অথবা নিদেন পক্ষে দরকার একজন জিয়াউর রহমান এবং তার রাজনীতি, বর্তমান বিএনপি নয়।
Mohammad Mozammel Hoque: তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখা সত্বেও মাহফুজ আলম এখন একজন মন্ত্রী। আর অনেক বেশি অবদান রাখা সত্ত্বেও সালমান তথা সাদিক কাইয়ুম সেরকম কিছু হতে পারেননি। কারণ সাদিক কাইয়ুমরা যে ধারায় চলেন সেখানে সেলফব্র্যান্ডিং এর কোনো সুযোগ নাই। তত্ত্বগতভাবে তারা সেলফব্র্যান্ডিংকে খারাপ বলে মনে করেন। অথচ ইসলামিক্যালি অপরকে হেয় না করা এবং মিথ্যা কথা না বলা সাপেক্ষে নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে নিজের জন্য উপযুক্ত পজিশন দাবি করা নবীগণের সুন্নত। একটা নতজানু এবং সামষ্টিক নেতৃত্বের পরিবেশে কিভাবে একজন এরদোগান গড়ে উঠবে?
Mamunur Rashid: একদম সঠিক পর্যবেক্ষণ। জামায়াত তাদের সোজা পথ হারিয়েছে অনেক আগেই।
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াত বিভ্রান্ত নয়। বরং নানা ধরনের বিপরীতমুখী কাজ একসাথে করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। এতোটুকু।
Md Ahsan Ullah: জামায়াত সম্পূর্ণ রূপে একটি রাজনৈতিক দল। কোনোভাবেই ইসলামী দল নয়।
Mohammad Mozammel Hoque: জামায়াতে ইসলামী একটা ইসলামী রাজনৈতিক দল হতেই পারে। আবার একটা ইসলামী আন্দোলন বলতে সামগ্রিকভাবে যা বোঝায়, সে ধরনের একটা আমব্রেলা অর্গানাইজেশন হিসেবেও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে সহযোগী একাধিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে।
এগুলো নীতিগত ব্যাপার। এ ধরনের মূলনীতিগত কোনো আলোচনা ওনাদের কোনো পর্যায়ে হয় কিনা আমার সন্দেহ …!
শরিয়ত উল্লাহ তুহিন: পাওয়ার পলিটিক্স না করে উপায় আছে? ইসলামি আন্দোলন টিকিয়ে রাখতে গেলে কিছুটা পাওয়ার পলিটিক্স করলে ক্ষতি কি?
Mohammad Mozammel Hoque: power politics অথবা centrist politics অবশ্যই করতে হবে। সেটা করার জন্য ডেডিকেটেড পলিটিক্যাল পার্টি থাকা জরুরী। অর্ধেক রাজনীতি, অর্ধেক ধর্ম, কিছুটা সমাজসেবা, কিছু হালকা পাতলা বুদ্ধিবৃত্তি চর্চা, এভাবে তালেগোলে শেষ পর্যন্ত কোনোটাই ভালো করে হয় না।
