‘মোজাম্মেল স্যার’ মূলত শিবির

হ্যাঁ, কথাটা সঠিক। তিনি নিজের সম্পর্কে তাই মনে করেন। বর্তমান শিবির অবশ্য তেমনটি ভাবে না। প্রমাণ, আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মির্জা গালিব আর সাদিক কাইয়ুমকে নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একটা বড় প্রোগ্রাম হচ্ছে। সেই প্রোগ্রামে ফরমালি বা ইনফরমালি কোনোভাবেই মোজাম্মেল স্যার ইনভাইটেড না।

চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতে শিবিরের অনেক প্রোগ্রাম হয় যেখানে জামায়াতের টিচাররা ইনভাইটেড থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ’রকম কোনো অনুষ্ঠানে তিনি আমন্ত্রণ লাভ করেননি। ‘সংগঠন’ ছেড়ে দেওয়ার কারণে জামায়াত-শিবিরের লোকেরা মোজাম্মেল স্যারকে ‘নিজেদের লোক’ বলে মনে করে না। এটি স্বাভাবিক। শিবিরের পার্শ্বসংগঠনসমূহের দায়িত্বশীলেরা অবশ্য তাঁর সাথে প্রয়োজনে যোগাযোগ করে।

আবরার ফারাবি এক সময় ছাত্রলীগ করতো। সম্প্রতি সে চবি ইসলামের ছাত্রশিবিরের একটা হলের সভাপতি হয়েছে। আজকে দেখলাম, নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন করতে গিয়ে সে মোজাম্মেল স্যারের সাথে আওয়ামী আমলের একটা প্রতিবাদ সমাবেশের ছবি দিয়ে দাবি করেছে, তখনও সে শিবির ছিল।

‘চবি দ্বীনি পরিবারে’র সৈয়ব আহমেদ সিয়াম। জুলাই আন্দোলনের সময়ে শিবির মনে করে পুলিশ তাকে খুঁজতেছিল। চবি রেল স্টেশনে শিবির আয়োজিত পুস্তক প্রদর্শনীতে একটা স্টলের সামনে মোজাম্মেল স্যারের একটা ছবি তুলেছিল সিয়াম। সেই ছবি পোস্ট দিয়ে ফেইসবুকে সে লিখেছিল, ‘শিবির মূলত মোজাম্মেল স্যার। পুলিশ না জেনেই আমাকে খুঁজতেছিল।’

জুলাই আন্দোলনের সময়ে শুধু নয়, আওয়ামী জাহিলিয়াতের পুরো সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের তৎকালীন স্ট্যাব্লিশমেন্টের দৃষ্টিতে মোজাম্মেল স্যার ছিলেন নাম্বার ওয়ান এনিমি।

২০১০ সালের দিকে ফর্মালি জামাআতে ইসলামী ত্যাগ করার পরেও শিবিরের ভর্তি গাইড ‘ইনডেক্স’এ উপদেষ্টা হিসেবে মোজাম্মেল স্যারের নাম ছাপা হতো বহুবছর। এখন হয় কিনা জানি না।

জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন হিসেবে ভূমিকাপালন করাসহ শিবিরের কিছু কাজকর্মের বিষয়ে প্রবল আপত্তি থাকলেও মোজাম্মেল স্যার এখনো ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ওভারঅল own করেন। নিজের ডায়েরিতে যৌবনের উন্মাতাল আবেগে তিনি শিবিরকে নিয়ে লিখেছিলেন,

a promise of blood
of all the drops,
a promise of life
of all the moments …!

শিবির নিয়ে তাঁর মধ্যে এখনো সেই আবেগ কাজ করে। এখনো তিনি সেই সোনালী সময়ের স্বপ্ন দেখেন। তবে এই শিবির সেই শিবির কিনা, সেটা ভিন্ন প্রশ্ন।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Md. Istiaq Hossain Mojumder: আমাকে বলেছিল তুইতো কিরিচ মোজাম্মেলের লোক। আমি বলেছিলাম এটা হতে পারলে আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।

Mohammad Mozammel Hoque: আমরা আরো অনেক উঁচু দরের ক্যাডার ছিলাম। আমাকে কিরিচের সাথে সম্পৃক্ত করা হলো ড্রাগকার্টেল বা গ্যাং লিডারকে ছিঁচকে চোর বা পকেটমার হিসেবে বলার মতো হাস্যকর ঘটনা। ছাত্রজীবন থেকে ধারাবাহিকভাবে আমার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় লেখা হতো। সাম্প্রতিক সময়ের আগে এ’ধরনের অভিযোগ কোথাও কেউ আমার বিরুদ্ধে বলেনি। কোথাও কোনো লেখাতেও আসেনি।

অন্য অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু এ’ধরনের হাস্যকর এবং সিলি কমেন্ট/এলিগেশন অর ব্যাড নেইমিং ছিল না। অভিযোগের বিবর্তন ঘটে, এটাই বুঝলাম!

Ahmed Shihab: ২০০৯ এ আওয়ামীলীগ আসার পরে মনে হল নতুন মোটরসাইকেলটা স্যারদের কারো নামে রেজিষ্ট্রেশন করা উচিত। দুজনকে অনুরোধের পর মন খারাপ করে মোজাম্মেল স্যারকে ফোন করি। একবাক্যে রাজি হয়ে যান, ছবি ও এনআইডি কার্ড দেন।

শহীদ যোবায়ের ভাইয়ের লাশ আনতে ফরেস্ট্রিতে যান মোজাম্মেল স্যার, শহীদ মাসুদের আর মুজাহিদের রক্তমাখা কাপড় সংগ্রহ করে মোজাম্মেল স্যার। আমাদের মোজাম্মেল স্যার আজীবন শিবির, স্যারের জন্য আমার আজীবন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

Nirjhor Ahammed Plabon: এক হাতে নোট, এক হাতে লাঠি একই সঙ্গে দুই হলের সভাপতি। যেকোনো মুহুর্তে শাহাদাতের অমিয় সুধা পানের সুযোগ হাতছানি দিচ্ছিলো এমন দুর্যোগে যিনি দৃঢ়হাতে হাল ধরেছেন তিনিই মোজাম্মেল স্যার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের মেধা, শ্রম ও অর্থ দিয়ে যিনি অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন।

তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাবেন না তা ভাবতেই পারছি না৷ যখন আমাদের হাতে টাকা নেই অথচ ঢাকা থেকে প্রশিক্ষক নিয়ে আসতাম তখন স্যারের বাসাই হতো আমাদের ঠিকানা।

Chowdhury Imam: খুব কি ভালো কাজ করেছেন?

Mohammad Mozammel Hoque: না, তা মনে হচ্ছে না। Abrar আমাকে রেফার করে কথা বলেছে। সেটা আমার কাছে মজার ব্যাপার বলে মনে হয়েছে। সেজন্য এই লেখা। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে তাদের সাথে আমার তেমন যোগাযোগ না থাকার বিষয়টা বলেছি। পাঠকদের বিরাট অংশ এটাকে আমার পক্ষ থেকে শিবিরের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ হিসেবে নিয়েছে। এবং অনেকেই তাদেরকে রাফলি বেহেইভ করেছে। এটা আমার কাছেও খারাপ লেগেছে। Yes, to some extent I feel guilty. I am sorry and embarrassed…!

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *