চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরকে ঢেলে সাজানো জরুরী

বিএনসিসি’র আদলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্ট্রং সিকিউরিটি সিস্টেম গড়ে তোলা উচিত। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, এবং ঘণ্টাপ্রতি সম্মানীর ভিত্তিতে স্টুডেন্টরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব জায়গায় নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করবে।

এতে অসুবিধা কোথায়?

শুধু নিরাপত্তার কাজ নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সকল কাজে সম্মানীর ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করবে। ক্যাম্পাসেই আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা থাকলে টিউশনের জন্য তাদেরকে আর শহরে ছুটতে হবে না।

এই কাজ আঞ্জাম দেয়ার জন্য ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের কার্যক্রম বাড়াতে হবে বহুগুণ। প্রশাসন আর স্টুডেন্টদের মাঝে তারা কোঅর্ডিনেট করবেন। প্রয়োজন এবং দক্ষতার ভিত্তিতে স্টুডেন্ট রিক্রুট, প্লেইসমেন্ট ও শিফট ম্যানেজমেন্টর দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন ধরনের নিজস্ব ও নির্ভরযোগ্য সিকিউরিটি সিস্টেম গড়ে তোলার আগে আপাত ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব থেকে স্থানীয়দেরকে অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।

একটা তুচ্ছ ঘটনায় গ্রামবাসীদের হাতে ৫ শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছে। ছবি থেকে স্পষ্ট, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ওপর সশস্ত্রভাবে হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীরাও ছিল।

এই পরিস্থিতিতে গার্ড থেকে শুরু করে পরিচালক, কোনো পর্যায়ে কোনো স্থানীয়কে রাখার কোনো সুযোগ নাই। এটি নিরাপত্তা পলিসির দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি হোস্টাইল এসব কর্মচারী, রিক্সাওয়ালা, টেক্সি ড্রাইভার, হকার ও দোকানদার সংঘবদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, এবং কিছু একটা করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর দোষ চাপাতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে ভবিষ্যতে কখনো আর না ঘটে সেজন্য স্থায়ী সমাধানের কথা আমাদেরকে এখনি সিরিয়াসলি ভাবতে হবে।

হাসিনার পতনের আগে যারা মধ্যরাতে আমার বাসায় বোমা হামলা করেছিল, তাদের মধ্যেও ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় কর্মচারী।

সার্বিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশু কর্তব্য হলো নিরাপত্তা দপ্তরে যেসব স্থানীয় লোকজন কর্মরত আছেন, তাদেরকে অনতিবিলম্বে অন্য অফিসে বদলি করা, এবং/অথবা গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে তাদেরকে অগ্রিম অবসর প্রদান করা।

যেই বেড়া ক্ষেত নষ্ট করে, সেই বেড়া রাখার যৌক্তিকতা কী?

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Khan Talat Mahmud Rafy: এই ব্যাপারগুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাবা উচিত।

Mohammad Mozammel Hoque: বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক ছাত্রকে আহত করার মতো সন্ত্রাসী ঘটনাকে যারা সমর্থন করছে, দায় স্বীকারের পরিবর্তে সাফাই গাইছে, তাদের সবাইকে, হোক তারা শিক্ষক, ছাত্র কিংবা কর্মচারী, তাদের প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে শোকজ করা উচিত।

Fazle Hasnat Chowdhury: একটা বিষয় জানার আছে। আপনি এখানে লিখলেন শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারী। আপনার মতে কি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা মাস্টার্স পাস অফিসার হিসেবে আছে ওনারা কি কর্মচারী? মানে যার যার একটা পজিশন আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দাপ্তরিক এতগুলো কাজ যদি অফিসাররা না করে, তাহলে ওগুলা কারা করবে?

কর্মচারী বলার মাধ্যমে কি আপনার নিজের সংকীর্ণ মানসিকতা ফুটে উঠছেনা? তাদের নিরুৎসাহিত করছেন না? নাকি জামায়াতের আদর্শ লালনকারীদের আমলাদের সাথে কোনো সমস্যা আছে?

Mohammad Mozammel Hoque: অফিসার বলা হয়নি সেজন্য? সেটা হতে পারে একটা typical mistake। তবে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুসারে সকল কর্মকর্তাই মূলত কর্মচারী। কর্মচারী কথাটা আদতে গালি নয়। এবং আমিও এটাকে গালি হিসেবে মনে করি না।

খুব কম সংখ্যক দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী থাকবে। বেশিরভাগ কাজ ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে আউটসোর্সিং করা হবে। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা হলে সব দিক থেকে সবার জন্য সার্বিকভাবে ভালো বলে আমি মনে করি।

Rifat Hossain: সবার আগে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে বিনয়ের সহিত লাইফ লিড করতে শেখান। তারা সবসময় নিজেদের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পাওয়ারটা লালন করে এবং সেটা গ্রামবাসী, রাস্তার সাধারণ মানুষ, সিএনজিওয়ালা, বাসের ড্রাইভার-হেল্পার এদের উপর প্রয়োগ করে নিজেদের হিরোইজম ভাবা থেকে বেরিয়ে আসতে বলুন।

ঐ দিন যদি আমার চবির সে উগ্র মেয়েটা বয়স্ক দারোয়ানটার উপর হাত তুলে চবির পাওয়ার না দেখাতো, যদি চবির পোলাপান গ্রামবাসীর উপর হেডাম দেখাতে না যেতো, তাহলে আজ এতবড় ঘটনা ঘটতো না।

সর্বশেষ বলবো, আমি জানি না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা বিনয়ী না হয়ে নিজেদের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার লালন করে, এটা কি শিক্ষকদের ব্যর্থতা নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটির দোষ?

Mohammad Mozammel Hoque: ক্ষমতা যখন যার কাছে যতটুকু থাকে সে সাধারণত সেটার অপপ্রয়োগ করে, এটা একটা সামগ্রিক সমস্যা। আর এই যে বললাম, ‘ক্ষমতা যখন যার কাছে যতটুকু থাকে সে সাধারণত সেটার অপপ্রয়োগ করে’ – এটা একটা সূত্র। এই সূত্রের আলোকে আমরা সব সমস্যার গোড়া খুঁজে পেতে পারি। Misuse of power and position is a social phenomenon. actually, a social disease in our society.

CU Gift House:  আপনার শিক্ষার্থীবান্ধব একটি প্রস্তাবনা বলতে শুনেছিলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কর্মচারী শূন্য করে প্রতিটি স্থানে শিক্ষার্থীদের শিফটভিত্তিক নিয়োগ করলে প্রকৃত শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, চাকসু ডাইনিং সবকিছু শিক্ষার্থীরা পরিচালনা করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রোল মডেল হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিলম্বে ‘জমিদার’ মুক্ত করা হোক। এত জমিদার আমাদের দরকার নাই।

ভ্লাদিমির লেনিন: আপনার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা আমাকে মুগ্ধ করে। এত প্লান নিয়ে আপনি কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেননা কেন? এতে দুটো সুবিধে:

১. নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তা কাজে লাগানো যাবে
২. প্রশাসনের অংশ হিসেবে এই কাজ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
কিন্তু, আসল কথা হলো বাইরে থেকে বসে বসে গল্প করা যত সহজ, বাস্তবে চেয়ারে বসে পারিপার্শ্বিক শত শত চাপ মাড়িয়ে এসব করা ততই কঠিন। কিছু মনে করবেন না। দুঃখিত।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, আমি তোমার কথার সাথে একমত। না পারলে দায়িত্ব না নেওয়াই ভালো। আমি তো বলি নাই যে আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি পারবো। তবে দায়িত্ব না নিলে আমি বলতেও পারবো না, এমন তো নয়। তাই নয় কি?

ভ্লাদিমির লেনিন: তা হলে আমি যদি বলি আপনি দায়িত্ব নেন না জনপ্রিয় থাকার জন্য। থিউরি দেওয়া যত সহজ, কাজ তারচে অনেক কঠিন। ভাল থাকবেন স্যার।

Mohammad Mozammel Hoque: হ্যাঁ, তুমি ঠিক কথাই বলেছো। দায়িত্ব নিয়ে ফেইল করে অজনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে দায়িত্ব নেওয়ার সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত থাকলেও যতদূর পারা যায় হক কথাটা বলে যাওয়াটাকে নিজের জন্য ভালো মনে করেছি।

Ononto Ahsan: বিএনসিসি’কে সকল নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হোক।

Mohammad Mozammel Hoque: বিএনসিসি দিয়ে হবে না। তবে ওই ধরনের একটা সংস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেটার কাজ হবে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে ক্যান্টনমেন্টে পাঠিয়ে তাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে আনতে হবে।

Asifur Rahman Tusher: তারপর আমরাও আমাদের গ্রামে যত শিক্ষক, শিক্ষার্থী আছে সবাইকে বের করে দিব। গ্রাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে রিলেটেড সবার চলাচল বন্ধ আজীবনের জন্য।

Mohammad Mozammel Hoque: বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়েই তো আসা-যাওয়া করে। গ্রামের কোনো রাস্তা দিয়ে তো তারা আসা-যাওয়া করে না। কোনটা গ্রামের রাস্তা যেটা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজন আসা-যাওয়া করে? আমি জানি না। Could you please enlighten me?

Lutfor Rahman: বর্তমান নিরাপত্তা দপ্তর বিলুপ্ত ঘোষণা করা উচিত। এটা আসলে জোবরা দপ্তর হয়ে গেছে।

Mohammad Mozammel Hoque: এসব অথর্ব লোকদেরকে রেখে লাভ কী? বাইরের লোক এসে তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অপরাধমূলক কাজ করবে না। করলে পাশের এলাকার লোকজনই করবে, অথবা তারা বহিরাগত অপরাধীদেরকে শেল্টার দিবে। সেক্ষেত্রে পাশের এলাকার লোকজনকেই যদি নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হয়, তাহলে যা হবার তাই হচ্ছে।

যাদের থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাদেরকেই নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রাখার কোনো মানে হয় না।

Moriom Nusrath Rubaiya: চবির নিরাপত্তা প্রহরী এখন রক্ষক থেকে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীরা, যাদের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারা বর্তমানে সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ, রক্ষক হয়ে যারা সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, তারা আজ পরিণত হয়েছে আক্রমণকারীতে।

Mohammad Mozammel Hoque: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর তাদের অনেক ক্ষোভ। তাদের চোখের উপরে ‘বাইরের লোকেরা এসে’ এত এত কিছু নিয়ে যাচ্ছে, ওরা এটা ওটা ছ্যাচড়ামি করা ছাড়া তেমন কিছু পাচ্ছে না, এই দুঃখ তাদের মনের মধ্যে খচখচ করে। এ কারণে সুযোগ পেলেই তারা তাদের বিবেচনায় বহিরাগত (তাদের ভাষায়, ভইঙ্গাদের) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের উপরে চড়াও হয়।

Amzad Hossain Azad: আপনার বাসায় যারা বোমা হামলা করেছিল, তাদেরকে কি চিহ্নিত করতে পেরেছেন? তাদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?

Mohammad Mozammel Hoque: তাদের নাম আমি প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে শুনেছি। কিন্তু তাদেরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এবং চিহ্নিত করতে পারি নাই। মামলা দেওয়ার জন্য আমি ১৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে হাটহাজারী থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু মামলা নেয়া হয় নাই। এবং আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।

Md Mamun: সময়োপযোগী সঠিক প্রস্তাব। তবে আমার মনে হয় না এই প্রশাসন এই ব্যবস্থা নিবে। কেননা তারা সবাই নিজেদের দলের পা চাটাতে ব্যস্ত। এই ব্যবস্থা নিলে তাদের অনেক ব্যবসায় ক্ষতি হবে, তাই তারা কখনোই ছাত্রদের কথা ভাববে না।

Mohammad Mozammel Hoque: হওয়ার কথা না, কোনো কারণ নাই। তারপরও দৃশ্যত মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ গ্রামবাসী, লোকাল লোকজন ও কর্মচারী ভাইদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য যেন এক পায়ে খাড়া হয়ে থাকেন।

Taosif Yasar: আমরা কেন আপনাকে অথবা আপনার মতো মানুষদের প্রশাসনে নিযুক্ত হিসেবে পাই না?

Mohammad Mozammel Hoque: কারণ, আমি বলার জন্য উপযুক্ত হলেও খুব সম্ভবত করার জন্য উপযুক্ত না। উপযুক্ত বিবেচিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আমি একজন আত্মস্বীকৃত অনুপযুক্ত ব্যক্তি।

Md Sakib: যেই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জমি ও শ্রমের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রতিষ্ঠানে আমাদের জীবিকার অধিকার অস্বীকার করা যায় না। চাকরি কেড়ে নেওয়া মানে আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। এটি অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।

Mohammad Mozammel Hoque: কারো চাকরি কেড়ে নেওয়ার তো প্রসঙ্গই উঠে না। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বরং একটা অগ্রাধিকার থাকা উচিত ছিল। লোকাল লোকজনই বরং ‘মুরাতে’ (মানে, পাহাড়ে) যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর চাকরি করার চেয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটার সুবিধা নিয়ে যদি পাহাড়ি লোকজন লেখাপড়া করতে পারে, তাহলে স্থানীয়রা কেন ‘স্থানীয় কোটা’ পাবে না? কোনো কোনো মন্তব্যে আমি এ ব্যাপারে বলেছি। বাস্তবতা হলো, এলাকাবাসী কখনো এ ধরনের দাবি উত্থাপন করেনি।

লেখাপড়া তাদের কাছে কখনোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না। নিজেদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া এবং এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ার মূল সুবিধার দিকে সংশ্লিষ্ট না করে, তারা নিয়োজিত হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদিতে। এমনকি কলোনিতে থাকা কর্মচারী ভাইদের মধ্যে যারা নন-চিটাগনিয়ান, দেখা যায় তাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ামুখী, ক্যারিয়ারমুখী। কলোনিগুলো থেকে অনেকেই শিক্ষক-কর্মকর্তা হয়েছে। এলাকাবাসী লোকজন, এবং এলাকার কর্মচারী ভাইদের মধ্যে লেখাপড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করার, মূল সুবিধার জায়গায় আসার আগ্রহ ও প্রচেষ্টা খুব কম। হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন এলাকাবাসী শিক্ষক, কর্মকর্তা হয়েছেন।

যদি এলাকাবাসী হয়ে থাকো, এই বাস্তবতাটা ইতোমধ্যে তুমি অবশ্যই খেয়াল করে থাকবে।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *