কিছুদিন আগে মৃত্যু নিয়ে লিখেছিলাম। মৃত্যুর আগেই হতে পারে মানুষের নানা রকমের মৃত্যু। তেমনি এক ধরনের মৃত্যু হলো সামাজিক মৃত্যু।
যে সামাজিক বাস্তবতায় আমরা বসবাস করি সেটার প্রতি যদি আমার না থাকে সমর্থন কিংবা বিরোধিতা, তাহলে বলা যায় সমাজের দৃষ্টিতে আমি একজন মৃত ব্যক্তি।
মৃত্যুর আগেই মরে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে তাই সক্রিয় হতে হবে সামাজিক অবদানে।
সেদিন জুমার নামাজ পড়তে গেলাম মসজিদে। আমার কাছে দাঁড়ালেন এক শিক্ষক। তিনি একসময় ছিলেন একটি পুরনো বিভাগের সিনিয়রমোস্ট প্রফেসর। ছিলেন একটি শিক্ষক সংগঠনের আহবায়ক। সামাজিক প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সকল ধরনের। মাশাআল্লাহ এইটি-প্লাস বয়সেও তিনি শারীরিক দিক থেকে সুস্থ।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিটায়ার করার পরে তিনি যেন জীবন থেকেই রিটায়ার করেছেন। কারো সাথে উনাকে কথা বলতে দেখি না। জীবিত থেকেও যেন তিনি মৃত।
হে খোদা, টোটাল ডেথ তথা চূড়ান্ত মৃত্যুর আগে যেন না হয় কারো এমন সামাজিক মৃত্যু!
যারা বিশ্বাসী তারা বেঁচে থাকে তাদের অঙ্গীকারের মাঝে। তাদের সামাজিক অবদানে। কমিটমেন্ট ইজ লাইফ! নো কমিটমেন্ট, নো লাইফ!
একটা হাদিসে কুদসিতে পড়েছিলাম, কেয়ামতের ময়দানে কোনো এক ‘বুজুর্গ’ ব্যক্তির আমলনামা হাজির করা হবে। দেখা যাবে তাতে সব সৎ আমল। মহান আল্লাহতালা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, দুনিয়াতে যারা আমার বন্ধু ছিল তাদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক ছিল? সেই ব্যক্তি বলবে, আমি সমাজ সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে শুধু তোমার এবাদত করেছি।
এরপর আল্লাহতালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, দুনিয়াতে যারা আমার শত্রু ছিলো তাদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক ছিলো? সেই ব্যক্তি বলবে, দুনিয়াতে কারো সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব সংঘাত কিংবা খারাপ সম্পর্ক ছিল না।
তখন আল্লাহতায়ালা বলবেন, আমার সত্তার কসম, যে ব্যক্তি আমার বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করলো না, আমার শত্রুর সাথে শত্রুতা করলো না, সে কখনো আমার প্রিয় হতে পারে না। তখন তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিবেন যাতে করে সেই ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।
বহুদিন আগে হাদিসটা পড়েছি। স্মৃতি থেকে যতটুকু পারলাম বললাম। মূল কথা এ’টুকু।
সমাজের ভালো-মন্দ নিয়ে একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার নিজস্ব বক্তব্য, অবস্থান এবং এপ্রোচ থাকতে হবে। একই সাথে মনে রাখতে হবে, কথাটা হক হওয়ার পাশাপাশি হক কথাটা বলার এবং হক কাজটি করার পদ্ধতিটাও হক হওয়া জরুরী।
