বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়

তখন আমরা অনার্সে পড়ি। একবার শাহজালাল আমানত হলের সামনের দোকানগুলোতে আগুন লেগে সব দোকানগুলো পুড়ে গেল। তখনকার সময়ে চেয়ার-টেবিল আছে এমন কোনো চায়ের দোকান বা হোটেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল না। আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে প্রথম চেয়ার টেবিলের হোটেল হলো শাহজালাল হলের সামনে। ‘প্রয়াস’।

তখন হামিদ হোসেন আজাদ ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি। টেরিবাজারে ছিল সাতকানিয়ার লোকজনের কাপড়ের ব্যবসা। হামিদ ভাইয়ের বাবাও ছিলেন বড় ব্যবসায়ী। হামিদ ভাইকে অনেক টাকা পয়সা দিতেন। তখনকার সময়ে মাসে কমপক্ষে ৭-৮ হাজার টাকা। উনি যখন খেতে যেতেন তখন আমাদেরকে সাথে নিয়ে যেতেন।

একদিন প্রয়াস হোটেলে উনি দুপুরের খাবার জন্য আমাদেরকে নিয়ে গেছেন। দেখা গেল হোটেল ম্যানেজারের চেয়ারে বসে আছেন শিবিরের এক কর্মী। হামিদ ভাই উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি এখানে কেন?’ ইত্যাদি।

জানা গেল তারা কয়েকজন মিলে ফান্ড ডেভেলপ করে এই দোকানটা দিয়েছেন। আমাদেরকে নিয়ে হামিদ ভাই তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়াস হোটেল থেকে বের হয়ে আসলেন। অন্যতম মালিক হিসেবে ম্যানেজারের চেয়ারে বসা ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের সেই ভাইকে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘আমাদের কোনো জনশক্তি আপনাদের এখানে খাবে না। আপনারা দোকানটা বিক্রি করে দেন।’

এরপর পাশের দোকানে (নূর মোহাম্মদ ভাইয়ের হোটেলে) আমরা সেদিন খেয়েছি।

শিবিরের ভাইদের কাছ থেকে কিনে ‘অলি ভাই’ প্রয়াস হোটেলের মালিক হওয়ার এটিই হচ্ছে কাহিনী।

সোহরাওয়ার্দী হলের প্রবেশপথে ডান দিকে মূল রাস্তার সাথে লাগোয়া গার্ড রুমটা বন্ধ দেখেছি যতদিন আমরা ছাত্র ছিলাম। এরপর দেখলাম, সেখানে একটা ফটোকপির মেশিন বসেছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, সোহরাওয়ার্দি হলের শিবিরের একজন ‘দায়িত্বশীলকে’ পার্টনার করে হলের তৎকালীন কেয়ারটেকার জুলফিকার ভাই সেই বন্ধ গার্ড রুমটা লিজ নিয়েছেন, হল প্রভোস্টের কাছ থেকে।

আমরা যখন শিবির করতাম তখন আমাদের জানা ছিল না, ফরেস্ট্রিতে গাছের একটা নিলাম হয়। পরবর্তীতে শুনেছি, শিবিরের এক নেতা সেই নিলামের দখল নিয়েছেন। রব হলের সামনে একটা পুকুর ছিল। শুনলাম, সেটাও কোনো এক ‘দায়িত্বশীল’ লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। এভাবে আরো কত কাহিনী।

সাদা কাপড়ে দাগ বেশি চোখে পড়ে। স্বাভাবিক।

আমি ১৯৮৫ সালে ভর্তি হয়েছি। ১৯৯২ সালে বিদায় নিয়েছি। আমাদের সময়কালে, পুরো ক্যাম্পাসের কোথাও নামে বেনামে কোনোভাবে শিবির-সংশ্লিষ্ট কারোর কোনো ধরনের ব্যবসা ছিল না। সদস্য সম্মেলনের কালেকশন হিসেবে ফরেস্ট্রির কন্ট্রাকটারের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছিল। খুব সম্ভবত ১০ হাজার টাকা। সেটার জন্য কেন্দ্র থেকে তৎকালীন দায়িত্বশীলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল।

আমাদের সময়কালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কোনো অফিস-রুম ছিল না। কোনো ‘সেন্টার’ ছিল না। আমরা কেন্দ্রীয় কিংবা হল মসজিদের ফ্লোরে প্রোগ্রাম করতাম। ছোটখাটো প্রোগ্রামগুলো হতো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলের রুমে।

এই ছিল আমাদের সময়কালের শিবির।

এখনকার শিবির সম্পর্কে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি, জানাশোনা খুব কম। শুধু এতোটুকু জানি, deeds are words।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Md Manwar Hossain Molla: বিনয়ের সাথে আব্দুর রব হলের পুকুর লিজের ব্যপারে দ্বিমত পোষণ করছি। তখন মাটি ফেলার কারনে আপনা থেকেই পুকুর হয়ে গেছিলো। এখানে তখনকার কোনো দায়িত্বশীল এবং আমরা কোনো লিজের সাথে জড়িত ছিলাম না। পরবর্তীতে হয়েছিলো কিনা জানিনা। আগে থেকেই ওখানে ছোটো একটা ডোবা ছিলো। পরবর্তী মাঠ ভরাট করার পরে বড় পুকুর হয়ে, যায়।

তবে একদিন মাছ ধরার পর আমাদেরকে কিছু মাছ দিয়েছিলো খেতে। ছাত্রদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আব্দুর রব হল গেটে জামায়াতের তিনজন কর্মী ভাড়া নিয়ে একটা ফটোকপি মেশিন দিয়েছিলো। আর একটা ব্যাপার তখন আব্দুর রব হলে অনেক নিয়োগ চলছিলো, জোবরা ও ফতেপুর গ্রামের অনেকে তখন তদবির করে এবং উপঢৌকন দিয়ে প্রভাবিত করতে চেয়েছিলো, কিন্তু পারে নাই।

একবার একজন আমাদের জন্য ২ ছড়া বড় কলা নিয়ে এসেছিলো, সৌজন্যের খাতিরে ৮/১০ টা রেখে সব কলা, ফেরত দিয়েছিলাম। আরও অনেক কিছুর প্রস্তাব ছিলো, আমরা সেগুলো এড়িয়ে গিয়েছিলাম। ধন্যবাদ।

Mohammad Mozammel Hoque: Manwar, ভাই আসসালামু আলাইকুম।

চাকরির বিনিময়ে উপহার গ্রহণ ইত্যাদি পরবর্তীতে কী পরিমাণে হয়েছে সেগুলো তো আপনারা জানেন না। আমরা যারা ক্যাম্পাস রয়ে গেছি আমরা এগুলো শুনতে বাধ্য হয়েছি। কানে যদি তালা লাগানো যেত তাহলে হয়তো সেটাই করতাম! আল্লাহ মাফ করুক। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এ বিষয়ে আমার একটা কথা আছে, accept criticism either as a medicine, or is a vaccine.

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *