শিবির কোন দিকে যাবে? অথবা, কী করবে?

‘অমুকের গালে গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘অমুকের চামড়া তুলে নিবো আমরা’ – এই ধরনের স্লোগান আশির দশকে শিবিরের ছেলেরা দিতো চিটাগাং কলেজ মহসিন কলেজ এলাকায়। সেখানকার ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ছেলেমেয়ে একসাথে জোড়বেঁধে বসলে বাধা দেয়া হতো। দৌ নট অলওয়েজ, বাট সামটাইমস, আই এম সিওর।

ছাত্রাবাসগুলোতে সিট এলোটমেন্ট দেয়া হতো কিনা আমার ঠিক জানা নাই। তবে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ হোস্টেলে শুধুমাত্র শিবিরের ছেলেরাই থাকতো, যতটুকু আমি জানি। শিবির নিয়ন্ত্রিত কলেজগুলোর ক্যাম্পাসে শিবির ছাড়া অন্য কারো মিটিং, মিছিল, নবীনবরণ কার্যক্রম ইত্যাদি চলতো কিনা আমি জানি না।

একই রকমের দখলদারিত্ব ছিল ছাত্রলীগের। সিটি কলেজ, এমইএস কলেজ এবং কমার্স কলেজে। অনুরূপ ধরনের ডমিন্যান্স বজায় রাখতো ছাত্রদলের ছেলেরা পাহাড়তলী কলেজে।

ঠিক সে সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

মিছিলের আগে আমরা যারা স্লোগান দিতাম আমাদেরকে স্লোগানের লিস্ট দেওয়া হতো। আমরা সেগুলোকে বলতাম ‘ছোথা’, মানে মুদি দোকানের লিস্ট। লিখিত কাগজ দেখে আমরা স্লোগান দিতাম। অন্যরা ধরতো। ‘…. গালে গালে জুতা মারো…’ ধরনের স্লোগান দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এমনকি নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো স্লোগান দেওয়ার অনুমতিও ছিল না।

তখন সকাল বিকাল মিছিলের রেওয়াজ ছিল। হলে প্রায়দিন সন্ধার পরে কিংবা রাত দশটার পরে বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল হতো। প্রতিদিন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিলে ফ্যাকাল্টি থাকতো সরগরম।

শিবিরের মিছিল মানে কমসেকম ৫-৭শ’ছেলের মিছিল। এ’রকম একটা মিছিল পার হয়ে যেতো, আর চার কোনায় চারটা ইটের টুকরা দিয়ে অন্য সংগঠনের কোনো পোস্টার রাস্তার উপরে যেখানে রাখা ছিল সেখানেই থেকে যেতো।

আমি যখন সদস্যপ্রার্থী তখন আমার তৎকালীন রুম শাহজালাল হলের এক্সটেনশন ৬/১ এ আমি ছাড়া ছিল আমার তিন সিনিয়র। মহসিন ভাই ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ছিলেন একরাম ভাই। আমরা সার্কাসটিকালি উনাকে বলতাম ‘একরামভ’। লুলু ভাই খুব সম্ভবত ছাত্রফন্ট করতেন।

আরেকজন ছিলেন, নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তিনি খুব সম্ভবত ছাত্রলীগ করতেন। তখন ছাত্রলীগ ছিল তিনটা। হাসিনাপন্থী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাকশালের আব্দুর রাজ্জাকপন্থী জাতীয় ছাত্রলীগ আর জাসদ ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশে ক্রিয়াশীল ছোট বড় প্রত্যেকটা ছাত্র সংগঠনের সব ধরনের নিয়মিত কার্যক্রম ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ফ্যাকাল্টিতে। শিবিরের দাপট, দৌরাত্ম্য, আধিপত্য, এই সব কথা আপনাদেরকে বুঝতে হবে এই বাস্তবতার আলোকে।

তখনকার সময়ে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেদের করা পথনাটক, ‘ক্ষ্যাপা পাগলা’র কথা এখনো আমার মনে পড়ে। লোকাল ছেলে হয়েও ‘সংগঠন করার’ সুবিধার জন্য আমি ভর্তি হওয়ার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উঠি।

শাহজালাল হল। সেই হলের গেইটের পাশে ব্যাডমিন্টন খেলার যে মাঠ, সেখানে ছাত্র মৈত্রীর কাউন্সিল হচ্ছে। প্রোগ্রামের আগে না পরে ঠিক মনে নাই, সেখানে ‘সামরিক শাসন, আর কত প্রহসন, আর কত দুঃশাসন’ এমন গান হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাওয়া হচ্ছে, এখনো আমার কানে বাজতেছে।

কত আর লিখবো…! অত বিস্তারিত লেখার সুযোগ এখানে নাই। শুধু কয়েকটা তথ্য উল্লেখ করে শেষ করি।

ফেনীর আব্দুল ওয়াদুদ ভাই আর আমি একসাথে সদস্যপ্রার্থী হই। কী একটা কাজে আমার রুমে এসছেন ওয়াদুদ ভাই। হঠাৎ করে উনি আমার রুমমেইট মহসিন ভাইয়ের টেবিলের উপরে দেয়ালের সাথে লাগানো একটা অর্ধনগ্ন ছবি ছিঁড়ে ফেলে দেন।

আমি না বললেও কীভাবে জানি না, দায়িত্বশীলদের কাছে ঘটনাটা রিপোর্ট হয়ে যায়। আরেকজনের লাগানো ছবি ছেঁড়ার কারণে প্রশ্নপত্র পাওয়া সত্ত্বেও ওয়াদুদ ভাই সে বছর, অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে সদস্য হতে পারেন নাই। পরে হয়েছেন।

আমাদের ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছেলেরা হলের ভিতরে দোকানপাটে দেদারসে সিগারেট খেতো। কেউ কেউ মদ, গাঁজা ইত্যাদি খেতো। যারা মদ খেত তারা নিজেদের রুমেই খেতো। বান্ধবীদের ছিল ছেলেদের হলগুলোতে অবাধ যাতায়াত।

শিবিরের ছেলেরা কখনো কাউকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে, এরকম কোনো ঘটনা শোনা যায় নাই। এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আমরা মেয়েদের হল গুলোর মত ছেলেদের হলগুলোতেও গেস্ট রুম ব্যবস্থা চালু করি।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গেস্ট রুম’ কথাটা ছিল নির্যাতনের স্মারক সমার্থক। অথচ তখনকার সময়ে কোনো গেস্ট রুমে কাউকে কোনো ধরনের অত্যাচার করা হয়নি। বরং প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে গেস্ট রুম ব্যবস্থা চালু করার কারণে বান্ধবীপ্রিয় ছাত্ররা ছিল আমাদের উপরে বিরক্ত।

বুঝতেই পারছেন, আশির দশকের শিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল একরকম, চট্টগ্রাম শহরে ছিল ভিন্নরকম। আমি চট্টগ্রামের মানুষ। চট্টগ্রাম সম্বন্ধে বলতে পারি। এর বাইরে দায়িত্ব নিয়ে কিছু বলা আমার জন্য কঠিন।

স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা শিবিরের ওপরে আস্থা রেখেছে। সারাদেশে শিবিরের জয়জয়কার। তাদের বিরুদ্ধে করা সকল প্রচারণা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

অভূতপূর্ব এই বিজয়ের ফলশ্রুতিতে তারা আগামীর দিনগুলোতে কী করবে? কোন দিকে যাবে? কোন ধরনের ক্যাম্পাসকে মডেল হিসেবে নিবে? আশির দশকের চট্টগ্রাম কলেজ আর মহসিন কলেজকে? নাকি, আশির দশকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে?

উত্তর জানার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। দেখা যাক কী হয় আগামী এক বছরে।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Sakib Mahmud Rume: একই আদর্শ, একই লক্ষ-উদ্দেশ্য, একই কর্মপদ্ধতি হওয়া সত্ত্বেও স্থানভেদে ছাত্রশিবিরের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র প্রকাশ পাওয়ার কারণ কী?

Mohammad Mozammel Hoque: আমরা যখন ছাত্র তখন আফগানিস্তানের যুদ্ধ চলছে। আমরা সেসব খবরাখবর নিয়মিত পড়তাম। তখন কোনো একজন আফগান যোদ্ধা এই কথাটা বলেছিল, ‘অস্ত্র লড়াই করে না, লড়াই করে মানুষ। মানুষইবা কী লড়াই করে, লড়াই করে তার ঈমান বা বিশ্বাস।’

‘ইসলামী আন্দোলনে সাফল্যের শর্তাবলী’ আমাদের এরকম একটা বই ছিল। সেখানে একটা কথা ছিল, সুযোগ্য লোকের হাতে একটা দুর্বল ব্যবস্থাও ভালো কাজ করে। তাই লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কর্মপদ্ধতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা কাজ করছে তাদের ঐকান্তিকতা ও যোগ্যতা।

Akbar Hossain: মহসিন কলেজ এলাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নয় আশেপাশে একসাথে চলতে পারতো, হোস্টেলে ভিন্নমতের ছাত্ররা ও থাকতো। মহানগরীর কালচার ছিল কলেজ যার দখলে, এলাকা তার।

Mohammad Mozammel Hoque: আমি যেভাবে দেখেছি সেটাই বলেছি। আমার দেখায় বলায় ভুল থাকতে পারে। কারণ আমি সেখানে কখনো ছিলাম না‌।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য কোথাও আমি কোনো ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ছিলাম না। কখনো কোনো সাংগঠনিক সময় ব্যয় করি নাই। আমার সকল অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম শহরের দায়িত্বশীলরা যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাসগুলোর কথা এভাবে আমাদেরকে বলতেন, কিংবা আমরা কখনো শহরে গেলে তাদের এসব যখন দেখতাম, তখন আমাদের খুব খারাপ লাগতো। বিশেষ করে আমার। এটি আমার অকপট স্বীকারোক্তি।

এর মানে এই নয় যে সেখানে উনারা ভালো কিছু করেন নাই। নিশ্চয়ই অনেক অনেক ভালো কিছু করেছেন। কিন্তু ওই যে কথাটা, সাদা কাপড়ে দাগ বেশি দেখা যায়।

তনিমা ইসলাম: যে প্রতিষ্ঠানে যে মডেল চলে, সেই মডেল এপ্লাই করবে৷ যেমন ঢাবিতে অলরেডি মদ, গাজার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে৷ কিন্তু এই অভিযান শিবির সরাসরি করছে না৷ করছে ডাকসুর ব্যানারে৷ চট্টগ্রাম কলেজে শিবির সরাসরি করতো৷ বিষয়টি হল পারসেপশন৷ কোনো সুনির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করাটা রাজনীতিতে ভুল৷ আমেরিকার মডেল যেমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অচল তেমনি বাংলাদেশের মডেল আমেরিকায়৷ ঠিক একই ভাবে প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে শিবির পরিবেশ অনুসারে তার মডেল ঠিক করুক৷

Mohammad Mozammel Hoque: মোরাল পুলিসিং আর মূল্যবোধ সংরক্ষণের জন্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থা দুইটা জিনিস এক নয়। প্রথমটা কাম্য নয়। দ্বিতীয়টা জরুরী। এগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক আলাপ আলোচনা হওয়া উচিত।

পাপ এবং অপরাধের মধ্যে পার্থক্য, এ’নিয়ে আমার একটা বিস্তারিত বক্তব্য এবং আলোচনা আছে। আমি এ ধরনের আলোচনায় পার্টিসিপেট করতে চাই। ধন্যবাদ।

Abdur Rahim: ১৯৮৭ সালে ভিপি জাকের উল্লাহ ভাইয়ের রুমমেট ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি লিয়াকত ভাই। তবে ধাপে ধাপে এ পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য শিবিরকে এককভাবে দায়ী করা যাবেনা। বর্তমান পরিবেশে শিবিরের দায়িত্ব অনেক।

Mohammad Mozammel Hoque: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। চট্টগ্রাম কলেজের অনেক পরে হলেও এই ধরনের ‘পরিবেশ নষ্ট’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়েছে, পরবর্তীতে। অর্থাৎ আমাদের ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পরে। শিক্ষক হিসেবে আমরা চোখের সামনে দেখেছি, কীভাবে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করা হয়েছে।

এখন আমি বুঝতে পারি, এটা ছিল অতি বড় জুলুম। আমাদের উচিত ছিল আরো প্রকাশ্যে, আরও শক্তভাবে তখনই এসবের প্রতিবাদ করা।

প্রতিবাদ আমরা করেছিলাম। আমি আর নেসার ভাই। কিন্তু সেটা আরো জোরালো হওয়া উচিত ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেক হকদারের কাছে তার প্রাপ্য পৌঁছে দাও।’ যে কারণেই হোক, দখলদারিত্ব ছিল এই হেদায়েতের পরিপন্থী।

Edward Ebb Bonno: যেই দলের ছাত্র সংগঠন শিবির, সেই দলের যে অবস্থা, তাদেরও তাই হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে ইসলামের ফিরে আসা, এই ফিলসফি আর মেথোডলজি দুটোই ফেইল করার পরেও ইস্তিকামাতের সাথেই যারা লেগে আছেন, তাদের জন্য দুয়া।

Mohammad Mozammel Hoque: দ্বীন কায়েম বনাম গণতন্ত্র কায়েম, এই যে বাইনারি হয়ে গেল, এইটাতে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্য হয়ে গেছে উপলক্ষ্য বা অজুহাত। আর উপলক্ষ্য হয়ে গেছে লক্ষ্য। আফসোস!

এখানেই আরেকজনকে বলেছি, every opportunity has a cost. জামায়াত আদর্শের বিনিময়ে ক্ষমতাকে বেছে নিয়েছে। সেটি তাদের ব্যাপার। কেউ ভুল পথে গেছে, তাদের জন্যে দোয়া করতে তো অসুবিধা নাই। সেটাই করি, আন্তরিকভাবে। আল্লাহ সাক্ষী!

আল্লাহ চাইলে ভুলের মধ্যেও রহমত দিতে পারেন! ছাত্র শিবিরের ব্যাপারটা আলাদা। ছাত্র অঙ্গনে তারা কতটুকুই বা কী করতে পারে? সেজন্য, শিবির টিকে থাকবে, যদি তারা সচেতন এবং সংযত হয়। আমার ধারণা, হবে আশা করি। লেটস সি।

Limon Lokman: ভো‌টের রাজনী‌তি‌তে ভালো করার ধারায় ফিরুক।

Mohammad Mozammel Hoque: Every opportunity has a cost. Nobody can focus on several points at the same time and with the same intensity. Let’s see, and hope for the best.

Apxn Zahirul Islam Sarker: লেখাটা পড়ে আপ্লুত হয়েছি। অনেক কিছু জানলাম। আপনাদের প্রত্যাশা ছাত্রশিবির পূরণ করবে, ইনশাআল্লাহ।

Mohammad Mozammel Hoque: এই যে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে গণসমর্থন এবং পলিটিকাল ম্যান্ডেট জামায়াত শিবিরের লোকেরা পেয়েছেন, সেইটা উল্টে যেতে সময় লাগবে না মোটেও, যদি তারা নিজেরাই স্বৈরাচারের পথ অনুসরণ করা শুরু করেন।

মানুষ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে খুব সচেতন, দলবাজির ব্যাপারে খুব বিরক্ত। এগুলো যারাই করবে তারাই ধরা খাবে নগদে।

Puspita: আপনাদের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় শিবির তো দেখা যাচ্ছে বেশ প্রগতিশীলই ছিল।

Mohammad Mozammel Hoque: That was really an ideal environment. I am so lucky that I was a part of that time, alhamdulillah!

এম. আর মিজান: আপনি ৮০ দশকের চবি শিবিরের কথা বললেন, খুনাখুনির ইতিহাসটাও একদিন লিখেন সময়করে। শিবিরের হাতে কয়জন খুন হয়েছে, শিবিরের কয়জন খুন হয়েছে এবং কবে।

Mohammad Mozammel Hoque: যে ছাত্র সংগঠন যেখানে ডমিনেন্ট ছিল শক্তিশালী ছিল সেখানে তাদের পক্ষ থেকে কম বেশি বাড়াবাড়ি হয়েছে, মারপিট হয়েছে, খুনাখুনি হয়েছে। এই অপরাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে তো তখনকার ডমিনেন্ট কোনো ছাত্র সংগঠন মুক্ত ছিল না।

সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে সেই পরিবেশ নাই। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে। সুতরাং এখন কী হবে, সেইটা দেখার বিষয়।

২০২৫ সালে এসে ১৯৮৫ সালের রাজনীতি তো চলবে না। চলার কথা না। ন্যায়, নীতি ও নৈতিকতার কথা ভিন্ন। যুগের পরিবর্তনে ধর্তব্য নয়। There is no moral holiday….

রিয়াজ মোরশেদ সায়েম: আমার মনে হয়, আদর্শের বোঝাপড়া আবার দীর্ঘ সময় পাঠ দিতে হতে পারে শিবিরেকে যদি তারা আশির দশকের চট্টগ্রাম, মহসিন কলেজ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরতে চায়। কারণ সে সময় আপনার ভাষ্য অনুযায়ী যে রাজনীতি কায়েম ছিলো, সেটাতে আওয়াজ হয়নি।

এখন সে ব্যবস্থা পুর্নবাসন করলে আওয়াজ হবে। হৈচৈ হবে। তখন হয়নি কারণ দীর্ঘদিন তারা এ আদর্শিক দাওয়াত পৌঁছাতে পেরেছে। আপনার কথাটা কিছুটা সত্যি, সে সময়কার মহসিন-চট্টগ্রাম কলেজ নিয়ে যেটা বললেন। আমি ১৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের দিকে যখন যাতায়াত শুরু করি। সেটা লক্ষ্য করতাম। তখন কারও চোখেমুখে উদ্বেগ ছিলো না। বরং ভক্তি ছিলো। নিরাপদবোধের একটা টান ছিলো।

দীর্ঘ রাজনীতি গ্যাপে সেটা উধাও হয়েছে। এখন জোর করে কায়েমের চেয়ে আদর্শিক বিষয়টা আবার প্রতিষ্ঠা করা লাগবে তাদের। যে-ই জোর করে আশির দশকরে ক্যাম্পাসে ফিরতে চাইবে মহসিন-চট্টগ্রাম কলেজের শিবির, তখনই হৈহল্লা হবে।

Mohammad Mozammel Hoque: সেই অতীতে ফিরে যাওয়া সেটা বোধ হয় কঠিন হবে। কারণ সাদা কাপড়ে দাগ বেশি দেখা যায়। তার চেয়ে বড় কথা, এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। এখনকার সময়ে যোগ্যতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। কম্পার্টমেন্টালাইজ করে, দেয়াল এবং দূরত্ব তৈরি করে এখনকার সময়ে জনশক্তিও তৈরি করা যাবে না, সংগঠনও পরিচালনা করা যাবে না।

I am hopeful. what I am saying is just warning, and as a whistle blower, I am supposed to do this.

Sabbir Himel: দুটো ভার্সনই প্রয়োজন, স্থান কাল পাত্র ভেদে। আর গড়ে পুরো দেশের হিসেব হওয়া উচিত দুটো ভার্সনের মিক্সড একটা ভার্সন। কথা হলো এখানে ব্যালেন্স থাকাটা জরুরী। অতি কট্টর কিংবা অতি প্রগতিশীল হয়ে গেলেই মুশকিল।

Mohammad Mozammel Hoque: ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আশির দশকে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ ক্যাম্পাস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, এ দুটোর কোনটাই বর্তমান শিবির অনুসরণ করবে না। বরং তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণকে মডেল হিসেবে নিবে।

আল্লাহ ভালো জানেন। ভবিষ্যতেই বলে দিবে কোন দিকে তারা যাচ্ছে বা যাবে।

Maruf Alom: শিবির যেদিকে যাচ্ছে।

Mohammad Mozammel Hoque: কিছু কিছু জিনিসকে বাধা দিতে হয়, নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে। কথাটা অন্যভাবে বললে, যে বিষয়টাকে সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে মোকাবেলা করা যায় সেটাকে আইন দিয়ে মোকাবেলা করতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়া সম্ভব। সেজন্য বুঝতে হবে এবং নির্ধারণ করতে হবে, সঠিক কৌশল।

Legalist approach is a dangerous risky approach. though, law enforcement is necessary. So, we need to differentiate between law enforcement and legalist approach.

Legalist approach is a top-down approach. in some matters, we need to adopt bottom of approach. In some matters, we have to adopt the top-down approach. A proper understanding of the prevailing situation can determine when we need to do what, which approach is necessary or not.

KM Adnan: ক্যাম্পাসে শিবির থাকলে মেয়েদের কোনো ঝামেলায় পড়তে হয় না।

Mohammad Mozammel Hoque: দ্যাটস ট্রু। বাট প্যারাডক্সিক্যালি, এই ‘অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার’ বিষয়টাকে তারা খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। নিজেদের ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে। সেজন্য ভারসাম্য বজায় রাখা, এবং কমনসেন্স কালচার, এক কথায় সীমারেখা মেনে চলা জরুরী।

আমার একটা তত্ত্ব আছে, ‘গণসম্মতি তত্ত্ব’। সেইটা আলোচনা করলে বুঝা যাবে, জনপরিসরে গণসম্মতির সীমারেখা কতটুকু কী।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *