হাসান ভাই। খুব সম্ভবত স্ট্যাটিস্টিকসে পড়তেন। আমি তখন সোহরাওয়ার্দী হল সেক্রেটারি।
এশার নামাজ পড়ে আমরা দায়িত্বশীলরা ডাইনিং এ খেতে যেতাম। ততক্ষণে ডাইনিংয়ে খাওয়া-দাওয়ার মূল পর্ব শেষ হয়ে যায়। নামাজের পরে আমরা আসবো তাই, ডাইনিং ম্যানেজার আমাদের জন্য ১০-১২ টা ‘কাপ’ আলাদা করে রেখে দিতেন।
একদিন হাসান ভাই বললেন, ‘মোজাম্মেল ভাই, আপনি কি জানেন, আপনারা যারা নামাজের পরে খেতে যান, আপনাদের জন্য রাখা কাপগুলাতে তরকারি একটু বাড়িয়ে রাখা হয়? নামাজের আগে একদিন খেতে গেলেই বুঝবেন।’
আর্থিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত অন্যান্য ছাত্রের মত হাসান ভাইও নিয়মিত ডাইনিংএ খেতেন। উনার কথা অনুসারে এশার নামাজের আগে তারপর দিন খেতে গিয়ে টের পেলাম, আমাদের জন্য যে কাপগুলো ট্রেতে করে আলাদা রাখা হয়, সেগুলোতে মাছ/গোস্ত, তরকারি ও ঝোল একটু বাড়তি রাখা হয়।
এরপর আমি বলে দিলাম, ‘এখন থেকে এশার নামাজের পরে ডাইনিং এ আলাদা করে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ’।
এর বিপরীত চিত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছি পরবর্তীতে। ততদিনে আমরা টিচার হয়ে গেছি।
জানতে পারলাম, একজন দায়িত্বশীলের জন্য শাহজালাল হলে ডাইনিং কর্মচারী কালা মিয়া ভাই আলাদা করে বাজার করে কিছু ছোট ডেকচি পাতিলে আলাদা করে রান্না করেন। এবং সেই রান্না লোকজনকে সাথে নিয়ে খেয়ে থাকেন সেই দায়িত্বশীল ভাই। বাজারের টাকা এবং রান্নার জন্য মজুরি কালামিয়া ভাইকে দেয়া হয়।
কাজটা আইনগতভাবে বৈধ হলেও নৈতিকভাবে ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। ইসলামিক টার্মিনোলজিতে রোখসত এবং আজিমত বলে দুইটা কথা আছে। নূন্যতম বৈধ মান বজায় রাখাকে বলা হয় রোখসত। আর উচ্চ নৈতিক অবস্থান বজায় রেখে চলাকে বলা হয় আজিমত।
যারা জনগণের নেতা হবেন, সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ব্যাপারে তারা যদি রোখসতের পথ অবলম্বন করেন তাহলে তারা প্রচলিত অর্থে ‘নেতা’ হতে পারলেও ভালো দায়িত্বশীল হতে পারবেন না কখনো।
এর কারণ হলো, আইনের সর্বোচ্চ ছাড় গ্রহণ করা নৈতিক দিক থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানের সামিল।
কমিটমেন্ট আর রেটরিকের পাশাপাশি জনগণ দেখে ইন্টেগ্রিটি।
আপনার কাজে যদি আপনার বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যায় তাহলে আপনি ম্যান অব ইন্টেগ্রিটি। একজন চোরও ম্যান অফ ইনটেগ্রিটি হতে পারে যদি সে নিজেকে সাধু দাবি না করে।
আমরা যারা নিজেদেরকে সাধু দাবি করি আমাদের ইন্টেগ্রিটির লেভেল কতটুকু?

