চলে যেতে হয়, যাওয়াটাই হচ্ছে আসলে নিয়ম, তবুও…

আজকের থার্ড ইয়ার ভাইভার মাধ্যমে সব ইয়ারের সব পরীক্ষা শেষ হলো। এখন নতুন ইয়ারে ক্লাসের পালা। শুধুমাত্র আউটগোয়িং ফাইনাল ছাড়া। দীর্ঘ স্টুডেন্ট লাইফ পার হয়ে তারা এখন কর্মজীবনের দ্বারে উপনীত। ওইসব সুন্দর সুন্দর ছেলেমেয়েদেরকে আর দেখবো না, ভাবতে খারাপ লাগছে।

প্রতি বছরই এমন বেদনাঘন সময় আসে। একেকজন ছাত্রছাত্রী যেন একেকটি ‘ছাও-পোনা’…! কীভাবে তারা দ্রুত সিনিয়র হয়ে উঠে…! হঠাৎ করে একদিন বিদায়ী বক্তব্য দিতে বিদায়বরণ অনুষ্ঠানের ডায়াসে গিয়ে দাঁড়ায়। অটোগ্রাফের জন্য ডায়েরি বাড়িয়ে দেয়! ক্লাসের সবচেয়ে অনিয়মিত ‘ফাঁকিবাজ’ ছাত্র বা ছাত্রীটার জন্যও, কেন জানি অনেক মায়া হয়।

বিদেশের মতো আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তো আর নিজের পয়সায় পড়ে না। গার্ডিয়ানের কষ্টার্জিত অর্থে তারা পড়াশোনা করে। অনেকেই বেশ কষ্টে শিক্ষাজীবনের এই সর্বোচ্চ পর্যায়টাকে পেরিয়েছে। জানি। খোঁজ না নিলেও বুঝতে পারি। তারা আমাদের তত্ত্বাবধানে এসে কী শিখলো, কতটুকু শিখলো, কে জানে…!

যে ডিপার্টমেন্টে বলতে গেলে কোনো প্রকার এক্সট্রা-একাডেমিক তৎপরতা নাই, স্টুডেন্টদের ন্যূনতম সুবিধাও নাই, অনেক সহকর্মীরই ছাত্রদের প্রতি দায়বোধ নাই, সেই ডিপার্টমেন্টের জন্যই, সেই সহপাঠী ও শিক্ষকদের জন্যই তাদের খারাপ লাগে, মন কাঁদে। আজীবন তারা ছাত্রজীবনের এই সোনালী সময়ের স্বপ্ন দেখে। স্মৃতি কাতর হয়…! ভাবতে অবাক লাগে!

এই বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও প্রায় অনুরূপ। পার্থক্য হলো, তখন জাঁদরেল সব শিক্ষক ছিলেন। তাঁরা সবাই যে নিয়মিত ক্লাস নিতেন, এমন নয়। কিন্তু যখন ক্লাসে আসতেন তখন আমরা যেন একটা ঘোরের মধ্যে সময় কাটাতাম। শিক্ষকতা জীবনের অন্তত প্রথম দশ বছর আমি প্রায় প্রতিটা ক্লাসের আগে প্রস্তুতিকালীন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছাত্রজীবনের ক্লাসনোট-ডায়েরিটা দেখে নিতাম।

যা হোক, যারা নতুন ইয়ারে নতুন নতুন সব কোর্স হতে জানার আগ্রহ নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছো, আমরা, অন্তত আমি নিজে কী পড়াবো তা ভেবে সত্যিই উৎকণ্ঠিত! এই ক্লাসভীতি আর সংকোচের কারণে প্রত্যেক বৎসর আমি অন্যদের তুলনায় কিছুটা দেরিতে ক্লাস শুরু করি। তারপরও তো ক্লাসে যেতে হবে। চাকরী তো…। স্টুডেন্ট হিসাবে আপনাদের সুবিধা হলো, আপনারা কোনো প্রিপারেশান ছাড়াই ক্লাসে আসতে পারেন। কিন্তু মাস্টার হিসাবে আমাদের তো রক্ষা নাই। ভাগ্যিস আপনারা প্রায় সবাই প্রায় সবসময়েই, মাশাআল্লাহ, বরযাত্রীর মতো ক্লাসে শুধুমাত্র হাজিরা দিতে আসেন…।

পোস্টটির ফেসবুক লিংক

একটি মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকhttps://mozammelhq.com
নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

আরো পড়ুন

কামরুল হুদা স্মরণে

সব ছেড়ে একদিন যেতে হবে, থাকবে শুধু কিছু স্মৃতি। থেকে যাওয়া প্রিয়জনদের সমবেদনা জানানোর ভিড়ে, হারিয়ে যাবে খানেক আগে নাই হয়ে যাওয়া জলজ্যান্ত মানুষটি।...

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ স্মরণে

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহ স্যার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন। তিনি চবি ইতিহাস বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ৮ দিন আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন...

খালাম্মা, আল্লাহ আপনার হায়াত বৃদ্ধি করে দিন, আমীন!

১৯৭৫ সাল। চাচাদের কারো কারো কাছ থেকে বিরূপ আচরণের সম্মুখীন হয়ে আমার বাবা আমাদেরকে নাজিরহাট সংলগ্ন বাবুনগর গ্রাম থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস সংলগ্ন নতুনপাড়া এলাকায়...