আপনি কতটুকু সামাজিক? কীভাবে বুঝবেন?

কেউ কতটুকু সামাজিক এটি বোঝার একমাত্র পদ্ধতি হলো সেই ব্যক্তির পরমতসহিষ্ণুতার ব্যারোমিটার চেক করে দেখা।

তথাকথিত উদারতাবাদীদের দেখবেন, যতক্ষণ আপনি তাদের উদারতাবাদের গুণগান গাইবেন ততক্ষণ আপনি বেশ ভালো। কিন্তু যখনই লিবারেলিজমের আপনি কোনো সমালোচনা করবেন, দেখবেন এর সমর্থকগণ মুহূর্তেই আপনার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে। হয়ে পড়বে আটমোস্ট ইনটলারেন্ট এন্ড ইলিবারেল।

একই রকমের উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতা আপনি দেখবেন তথাকথিত প্রগতিশীলদের মধ্যে। প্রগতিশীলদের দৃষ্টিতে যারা প্রতিক্রিয়াশীল তাদের বিরুদ্ধে যতক্ষণ আপনি কথা বলবেন ততক্ষণ প্রগতিশীলদের কাছে আপনি খুব প্রিয়। আপনি যথেষ্ট মডারেট, বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানীগুণী ইত্যাদি।

যখনই আপনি প্রগতিশীলতার অন্তর্নিহিত অসঙ্গতি, বিরোধ এবং ডগমেটিজম নিয়ে কথা বলবেন সাথে সাথেই আপনি হয়ে পড়বেন পরিত্যাজ্য, প্রতিক্রিয়াশীল।

যতক্ষণ আপনি ‘নারী নির্যাতিত’ এই বয়ানের উপর থাকবেন, একাট্টাভাবে নারীর অধিকারের কথা বলবেন, ততক্ষণ আপনি নারীবাদীদের দৃষ্টিতে যথেষ্ট মানবিক। কিন্তু যখনই আপনি নারীবাদের কোনো সমালোচনা করবেন, তখনই আপনি হয়ে পড়বেন নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক।

অসহিষ্ণু ব্যক্তিমাত্রই গালিবাজ। ভারবাল এবিউজ না করে, গালি না দিয়ে সে থাকতে পারে না। মানুষের কমন গ্রাউন্ড অব রেশনালিটিকে সে অস্বীকার করে। ইতিহাস তার কাছে মূল্যহীন। যুক্তিবুদ্ধি তার কাছে বিষতুল্য, পরিত্যাজ্য।

সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ধর্মকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে কিংবা ধর্মবিরোধীদেরকে মোকাবেলা করার সময়ে, দেখবেন ধার্মিকদের বিনয় ও নম্রতা খসে পড়ছে খুব বিশ্রীভাবে।

অসহিষ্ণুতার এই সামাজিকীকরণ ছড়িয়ে পড়ছে ক্যান্সারের মতো। একে ঠেকানোর কী উপায়?

এনি সাজেশান?

মন্তব্য – প্রতিমন্তব্য

Shakil Mia: স্যার, যেখানে উদারনৈতিক ভদ্রলোকগণ বা পরমতসহিষ্ণুরা বলছে ব্যক্তিই সব, চাই ব্যক্তিস্বতন্ত্রতা। কিন্তু এই ব্যক্তিস্বতন্ত্রতাই হচ্ছে সামাজিক জীবনের প্রধান বাঁধা। মানুষের সামাজিক জীবন কেন গুরুত্বপূর্ণ বা কেন গুরুত্বপূর্ণ নয়?

Mohammad Mozammel Hoque: মানুষের সামাজিক জীবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, we live more as a species than as an individual. আমাদের ব্যক্তিগত বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে আমাদের সকল পূর্বপ্রজন্মের বয়স এবং অভিজ্ঞতাকে যোগ করে আমাদের প্রকৃত বয়স হিসাব করতে হয়।

উন্নত সমাজব্যবস্থার কারণে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে, মানুষ পৃথিবীর বুকে টিকে থেকেছে।

Rakibulla’h: Sir, Isn’t the intolerant of intolerance bit closely linked with Karl Popper’s postulation of paradox of tolerance? Paradox of tolerance entails that in a societal context we shouldn’t be tolerant of intolerance.

According to Prophet, if we are tolerant or inclusive of intolerance then intolerance will ultimately dominate everything. Ergo, eliminating the tolerance & practice of tolerance with it.

In Popper’s axiomatic musings, he suggested that to retain a tolerant society, we have the right to be intolerant of intolerance.

It should be noted that Karl Popper’s paradox of tolerance was put forward by him with the backdrop of 2nd world war and specifically geared towards far-right unhinged ideologues.

Mohammad Mozammel Hoque: it is very interesting, ‘paradox of tolerance’.

Khaled Sami: এখন যদি এভাবে প্রশ্ন করা হয় যে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে হামাসের নানা দোষ আছে-এই নিয়ে বাংলাদেশে সোচ্চার হওয়া দরকার। আলোচনা-সমালোচনা হওয়া দরকার। এটা আমাদের দেশের কত পার্সেন্ট ইসলামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা মানবে? অথচ হামাস তো এখন আর দুর্বল না।

পুরো পৃথিবীর বড় একটা অংশ ফিলিস্তিনের পক্ষে আছে। লীগের চরম জুলুমতান্ত্রিক কাঠামোতে বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা, আলোচনা ইত্যাদি কয় পার্সেন্ট ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী টলারেট করবে? উপরে দুইটা কাঠামোতে কেউই টলারেট করবে না। এটাই স্বাভাবিক।

Mohammad Mozammel Hoque: টলারেইট করবে না, এটা বর্তমান পরিস্থিতি। সে হিসেবে স্বাভাবিক। তবে আত্ম-সমালোচনাকে যে কোনো সময়ে অ্যাপ্রিশিয়েট করা উচিত। If criticism is valid then it is a medicine for the person. if criticism is intentional and invalid, then criticism works as a vaccine.

এই দৃষ্টিতে নিজের পক্ষের সমালোচনাকে কেউ সহ্য করবে না, এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। বরং অনুচিত।

Khaled Sami: এখানে মূল জিনিসটা হচ্ছে ফ্যাক্টসের বোঝাপড়া। যে বিষয়টাকে আপনি মোটামুটি ফ্যাক্ট বলে ধরে নিচ্ছেন তা আমার কাছে ফ্যাক্ট না। আর একটা সমস্যা হচ্ছে যে কোনো বিষয়ে ৫% মেরিট থাকলে সেটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ৫০% দেখানো। এই কাজটা ইসরাইলিরা করে থাকে ও লীগের লোকজন এবং বহু ইসলামপন্থী ভাইয়েরা করে থাকে।

যেমন, সবার কাছে ফিলিস্তিন মাজলুম। কিন্তু ইসরাইল বলবে যে, তারা হলো মাজলুম। এবং এর স্বপক্ষে মোটামুটি ৫% মেরিটওয়ালা এভিডেন্স দেখানো যাবে। এর সামান্য বাস্তবতাও আছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে পুরা পৃথিবীর অনেক দেশ আছে ইত্যাদি। তাই তারা শক্তিশালী। একইভাবে যখন ইসলামপন্থী ভাইদের সাথে কোনো বিষয়ে কথা বলা হয়, তখন তারা একই অ্যাপ্রচে কথা বলে। তখন আমাদের আর টলারেট করার কিছু থাকে না।

যেমন, আমরা বলি বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে নারীরা দুর্বল। এখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বিরাজমান। এর স্বপক্ষে অনেক পেপার, রিপোর্ট ও স্টাডি দেখানো যাবে। অন্যদিকে বহু ইসলামপন্থী ভাইদের কাছে নারীরা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী এবং এর স্বপক্ষে তারা ৫% মেরিটওয়ালা এভিডেন্স ও স্টাডি দেখাবে। এখন কী করার? ফলে তারা তাদের বাস্তবতা উপলব্ধি ও ফ্যাক্টের বোঝাপড়া নিয়ে থাকে, আর আমরা থাকি আমাদের বোঝাপড়া নিয়ে।

Mohammad Mozammel Hoque: সব কথার বড় কথা হলো, আমাদের মধ্যে, সব মানুষের মধ্যে, একটা কমন গ্রাউন্ড অফ রেশনালিটি আছে। এবং মোটাদাগে আমাদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা, ইংরেজিতে বললে lived experience একই।

তাই যখন আমরা এক টেবিলে বসে মুখোমুখি খোলাখুলিভাবে আলোচনা করি তখন ভেসে ওঠে আসল সত্যটা কী। what is what। সেজন্য কোনটা ফ্যাক্ট, কোনটা ফিকশন বা কতটুকু ফ্যাক্ট, এটা একেবারে হুবহু সমাধান করা না গেলেও একটা নূন্যতম গ্রহণযোগ্য মানের পরিবেশে পরস্পর কথা বললে, ভেসে ওঠে কার কম্পাসটা কোথায়।

মানুষের সকল বিরোধ আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব না হলেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব। পরমত সহিষ্ণুতা তৈরীর জন্য চাই আলোচনার পরিবেশ। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তৈরি হতে পারে পরমত সহিষ্ণুতা। এগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করে।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *