এপিসটেমিক অনেষ্টি বনাম হিপোক্রেসি

আপনি সত্যকে সত্য মনে করবেন, মিথ্যাকে মিথ্যা মনে করবেন। সত্যের পক্ষে দাঁড়াবেন, মিথ্যাকে মোকাবেলা করবেন। এই যে-যে কোনো বিষয়ে একটা কিছুর পক্ষে আপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং অন্যান্যদের বিপক্ষে আপনার অবস্থান, এটা অসহিষ্ণুতা নয়, বরং কমিটমেন্ট ।

আমরা কমিটমেন্ট এবং ইনটলারেন্সকে অনেক সময়ে বুঝতে ভুল করি। দুইটার চেহারা একই। কনটেন্ট ভিন্ন।

কোনো কিছুর প্রতি কমিটেড থাকলে সেটার থেকে ভিন্ন যা কিছু আছে সেসব কিছুর প্রতি যে কেউ ইনটলারেন্ট হবে, এটি স্বাভাবিক। বরং এটাই হওয়া উচিত।

সবকিছুকে সঠিক মনে করে যে, যার নিজের কোনো অবস্থান নাই, অথবা সব বিষয়ে মাল্টিলেয়ারে কথা বলে যে ব্যক্তি, সে আসলে একটা হিপোক্রেট।

কীভাবে বুঝবেন এইটা ইনটলারেন্স নয়, বরং কমিটমেন্ট?

কোনো কিছু সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সেই দৃষ্টিভঙ্গির যে ভিত্তি, আমাদের যে বেসিক আর্গুমেন্ট বা ফাউন্ডেশনাল বিলিভস, সেগুলো নিয়ে কেউ যদি কথা তোলে, অথবা সেগুলার ভিত্তিতে আমাদের কাজকর্মের মধ্যে কেউ যদি কোনো অসঙ্গতির অভিযোগ করে, তখন আমি কী করি, সেটা দিয়ে বুঝা যাবে, আমি কি কমিটেড, নাকি ইন্টলারেন্ট।

একজন কমিটেড ব্যক্তি তার বেসিক থটস নিয়ে সবসময় ওপেন থাকবে। দুইয়ের সাথে দুই যোগ করে চার ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে, এটা সে কখনই গ্রহণ করবে না। কিন্তু সে মনে করতে পারে, দুইয়ের সাথে দুই যোগ না করে তিনের সাথে এক যোগ করে অথবা চারটা এক যোগ করে অথবা পাঁচ থেকে এক বিয়োগ দিয়ে, এভাবে নানা পথে চার হতে পারে।

কোনো ব্যক্তি যখন ‘দুই যোগ দুই সমান সমান চার’ এই কথা না বলে অন্য কোনোভাবে চার বলছে, তখন একজন কমিটেড ব্যক্তি জানতে ও বুঝতে চাইবে, ঐ ব্যক্তি কেন ও কীভাবে চারের কথা বলেছে।

একজন অসহিষ্ণু ব্যক্তি ‘দুইয়ে দুইয়ে চার’ এই কথাটা গ্রহণ করার পরে এর চেয়ে ভিন্ন কোনো সমীকরণ সম্পর্কে শুনতেই চাইবে না। ‘দুইয়ে দুইয়ে চার’ এই কথাটা যারা স্বীকার করে না, তাদের উপর সে নানাভাবে চড়াও হবে।

অথবা, যে ব্যক্তি চারের পক্ষে তাকে যদি দেখিয়ে দেওয়া হয়, মুখে চারের কথা বললেও বাস্তবে তুমি কিন্তু চারকে নিচ্ছো না। বেশি বা কম নিচ্ছো। অথবা, তোমার অমুক আচরণটা তোমার মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।

তখন সেই ব্যক্তি যদি এই সমালোচনাকে শুনতেই না চায়, আমরা বুঝতে পারবো, সেই ব্যক্তি অসহিষ্ণু। ডগমেটিক।

এ ব্যাপারে আরেকটা জরুরী কথা হলো, আমাদের সকল চিন্তাভাবনা দিনশেষে আমাদেরই চিন্তাভাবনা। সর্বজনীন সত্য অটোমেটিক্যালি সর্বজনীন সত্য হয়ে থাকলেও সেটা আমাদের জন্য সর্বজনীন হয়ে উঠে, যখন আমরা সেটাকে সর্বজনীন হিসেবে গ্রহণ করে নেই। এই দৃষ্টিতে, জ্ঞানমাত্রই একই সাথে সাবজেক্টিভ এবং অবজেক্টিভ। 

এপিসটেমিক সাবজেক্টিভিটি থেকে ভিন্নতর জিনিস হচ্ছে আমিত্ববাদ। ইংরেজিতে বলে solipcism। অর্থাৎ একমাত্র আমার কথাই সঠিক। আমিত্ববাদীরা অপরের কথা শুনতেই চায় না। এবং নিজের পক্ষে সে স্ব-বিরোধী যুক্তিকে বেমালুম সঠিক যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। সবসময় কথা বলবে মাল্টিলেয়ারে। একেকবার একেক কথা বলে।

একদেশদর্শিতা হচ্ছে অসহিষ্ণুতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

কোনো ব্যক্তির আগের কথার সাথে, পরের কথার যদি সামঞ্জস্য না থাকে, তার কথাটা ভুল হওয়ার সাথে সাথে তাকে আমরা হিপোক্রেট হিসেবে আইডেন্টিফাই করবো। সক্রেটিস তার পূর্ববর্তী সফিস্টদের সাথে কথোপকথনে তাদের কথাবার্তার অন্তর্নিহিত বিরোধ এবং অসামঞ্জস্যকে দেখিয়ে দিতেন।

ভুল আদম (আ.)ও করেছেন, ইবলিশও করেছে। আদম (আ.) সেই ভুল স্বীকার করেছেন। ইবলিশ অপযুক্তি দিয়ে ভুলকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছে। পার্থক্য এখানেই।

লেখাটির ফেইসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *