পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ ও যুক্তির পার্থক্য

মানুষের সাথে অন্য প্রাণীর অনেক মিল আছে। কিন্তু আমি ফোকাস করছি বেমিলগুলির প্রতি। সেগুলি কেন?

পাঠকের পাল্টা প্রশ্ন:

কেন সে সিরিয়াস হবে? কেন সে এই প্রশ্নকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করবে? অথচ এ প্রশ্ন উত্থাপন করা ছাড়াই ভালোভাবে থাকা যায়, অনেকে এমনটা দাবি করছে। তাদের ধারণায় তারা সুখেই আছে।

আমার পাল্টা প্রশ্ন:

মানুষ কেন মানুষ হয়েছে? এক কথায় জবাব দিবেন।

পাঠকের পক্ষ থেকে উত্তর:

অনেকে অনেকভাবে জবাব দেয়। তাদের মস্তিষ্ক অন্য প্রাণী থেকে শক্তিশালী, প্রত্যেকটা দিক থেকেই অ্যাডভান্স। এটা দিয়েই এখন জবাব দেওয়া হচ্ছে।

এখানে কেউ শুধু অস্তিত্বের কারণ খোঁজাকে দায়ী করেছে কিনা আমার জানা নাই। জানা থাকলে আপনি বলুন।

আমার উত্তর:

আপনি রেফারেন্স চাচ্ছেন। সরি! আমি রেফারেন্স দিয়ে কথা বলি না। আমার লেখা ও কথায় রেফারেন্স থাকে না। অথবা, খুব কম রেফারেন্স থাকে। এমন রেফারেন্স যা সবাই জানে। আমি যুক্তি দিয়ে কথা বলি।

পাঠকের প্রশ্ন:

যুক্তিটা কী, সেটাই তো জানতে চাচ্ছি।

যুক্তি প্রয়োগে দলীলের কি প্রয়োজন নেই?

কেউ কিছু দাবি করলে তার দলীল আবশ্যক। যদি দলীলের প্রয়োজন না হয় সেটারও দলীল আবশ্যক। দলীল হতে পারে যুক্তি, সায়েন্স ইত্যাদি। যেটা আমাদের মস্তিষ্ক উপযুক্ত মেনে নিবে। এটা আমি মনে করি।

এ পর্যায়ে আমি বলেছি:

যু্ক্তি কী? এই প্রশ্নের সোজাসাপ্টা জবাব হচ্ছে, যুক্তি হলো যুক্তি।

যদি বলি যুক্তি হলো ‘ক’। তাহলে প্রশ্ন উঠবে ‘ক’ কী? তখন যদি বলা হয় ‘ক’ হলো ‘খ’, তাহলে প্রশ্ন উঠবে ‘খ’ কী? ‘খ’ কেন সঠিক হবে? এভাবে আপনি এক অন্তহীন পরম্পরায় পৌঁছবেন।

উক্ত পাঠক এ পর্যায়ে প্রশ্ন করেছেন:

এখানে আপনার যুক্তিটা কী? যুক্তিতে তো দাবি করা হয়। দাবিকে তো প্রমাণ করতে হবে, মানুষের কাছে উপযুক্ত হতে হলে। তাই নয় কি?

আমার উত্তর:

যুক্তি প্রমাণ করা যায় না। যুক্তি প্রমাণ করার বিষয় না। যুক্তি আর প্রমাণ, দুইটা দুই ক্যাটাগরি। দুইটা গুলিয়ে ফেলা হলো ক্যাটাগরি মিসটেক। যুক্তিকে উপস্থাপন করা হয়। মানা না মানা যার যার বিষয়।

ফিলোসফি হলো যুক্তির ব্যাপার-স্যাপার। ফিলোসফিতে প্রমাণ থাকে না। ফিলোসফি বরং প্রমাণের প্রামাণিকতা নিয়ে কাজ করে। কথিত প্রমাণের ভিত্তি হলো যুক্তি। আপনি ফিলোসফির বইপত্র পড়ে দেখতে পারেন। আপনার পছন্দ মতো। সায়েন্স, ফিলোসফি আর রিলিজিয়ন– এই তিনটা তিন ডোমেইন। ভিন্ন ভিন্ন ডিসিপ্লিন। একটার চোখ দিয়ে অন্যটাকে দেখা ভুল।

এই তিন বেসিক ডোমেইনের অন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আমার কিছু লেখালেখি ও পোস্টার আছে। মুক্তবুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র এবং সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে এগুলো পাবেন। ভালো থাকেন।

ফেসবুক থেকে নির্বাচিত মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

Titas Rahin Tanvir: যুক্তির যদি প্রমাণ কিংবা মানদণ্ড না থাকে, তবে সেই যুক্তি যে আসল যুক্তি– সেটা মেনে নেবার যুক্তিটাই বা কী?

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: যুক্তি মেনে নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে সেটি যুক্তি না হয়ে প্রমাণ হয়ে যায়। যুক্তি মাত্রেরই মেনে নেয়ার কারণ বা যুক্তি থাকে; মেনে না নেয়ারও কারণ বা যুক্তি থাকে। ব্যক্তির অন্তর্গত ঝোঁকপ্রবণতা বা বিশ্বদৃষ্টি কিংবা তার আবেগই ঠিক করে, কোন ধরনের যুক্তিকে সে গ্রহণ করবে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

একটি মন্তব্য লিখুন

প্লিজ, আপনার মন্তব্য লিখুন!
প্লিজ, এখানে আপনার নাম লিখুন

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকhttps://mozammelhq.com
নিজেকে একজন জীবনবাদী সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলসফি পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। থাকি চবি ক্যাম্পাসে। নিশিদিন এক অনাবিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি। তাই, স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই। বর্তমানে বেঁচে থাকা এক ভবিষ্যতের নাগরিক।

সম্প্রতি জনপ্রিয়

আরো পড়ুন

ইন্ডিভিজুয়ালিজম ও ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র প্রশ্ন করেছেন: ‍“স্যার, আমি ইন্ডিভিজুয়ালিজম আর ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে কনফিউজড হয়ে পড়ছি, খুব ভালো হয়, যদি দুয়েক লাইনে কিছু লিখে...

ইন্ডিভিজুয়ালিজম আর ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য

একটু আগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র প্রশ্ন করেছেন: ‍“স্যার, আমি ইন্ডিভিজুয়ালিজম আর ফাউন্ডেশনালিজমের মধ্যে কনফিউজড হয়ে পড়ছি, খুব ভালো হয়, যদি দুয়েক লাইনে...

যুক্তি বলে বুদ্ধিবাদই সঠিক

law of identity বা সত্তাগত স্বাতন্ত্র্যতার সূত্রানুযায়ী অন্য কোনো ভেরিয়েবল বা শর্তের পরিবর্তন ব্যতিরেকে কোনো কিছু একইসাথে একাধিক সত্তা বা অস্তিত্বসম্পন্ন হবে না। তারমানে,...