আমাদের অস্তিত্বের কারণ কী?

আমার এখানে মূল জানার বিষয় হলো, ‘আমাদের অস্তিত্বের কারণ কী এই প্রশ্নের প্রয়োজনীয়তা কী? পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এটার প্রয়োজন ছাড়া আছে। আত্মপরিচয় বলতে আমি এই প্রশ্নটাকেই মেইন হিসাবে ধরছি। এই প্রশ্নটা করা মানুষের জন্য প্রয়োজন, এর বৈজ্ঞানিক বা কোনোরূপ প্রমাণ কি আছে? আমি বিজ্ঞান বলতে পর্যবেক্ষণ বুঝিয়েছি। যুক্তিও থাকতে পারে।

এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলেছি:

“পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এটার প্রয়োজন ছাড়া আছে।” আপনার এই কথাটা ভুল। বরং এ বিষয়ে আপনি আমার উপরের কথাগুলো হতে এই অংশটুকু খেয়াল করেন,

‘আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা শুধু নয়, আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে সমাধান করেই তবে মানুষ সভ্য হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড যা-ই হোক না কেন, সভ্যতা মানেই স্বাতন্ত্র্যবোধ ও বিশিষ্ট আত্মপরিচয়। আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জীবনবোধ না থাকলে মানুষ ‘মানুষ’ হয়ে উঠতো না। হতে পারে, এই আত্মপরিচয়কে মানুষ অবচেতনে সঠিকভাবে বুঝে নিলেও কেউ কেউ হয়তোবা একে স্বীকার করে না, বা করতে চায় না।’

উক্ত পাঠকের সম্পূরক প্রশ্ন:

আমার অস্তিত্বের কারণ কী?” এই প্রশ্নটি করার কোনো প্রয়োজন আছে কি? যদি এ দাবির পেছনে দলীলের প্রয়োজন না হয়, সেটারই বা কী যুক্তি আছে?

আমার উত্তর:

“আমার অস্তিত্বের কারণ কী, এই প্রশ্ন অত্যাবশ্যকীয় কেন?”

মানুষ অস্তিত্বগত এই প্রশ্নকে ডিল করেই আজ এই অবস্থায় এসেছে। সচেতনভাবে হোক বা অবচেতনেই হোক, মানুষ নিজেকে সেরা মনে করেছে। সে ভেবেছে আমাকে সেরা হতে হবে, সবচেয়ে ভালোটা পেতে হবে, বিশ্বসভায় নেতৃত্ব দিতে হবে। তার কাজই এটা প্রমাণ করে। এজন্য সে আবিষ্কার করেছে।

মানুষের এই ‘মানবিক বিশেষত্ব’ তো তার অস্তিত্বগত প্রশ্ন হতেই উদ্ভূত। কথাটা উল্টা করে বললে, এভাবে বলা যায়, অস্তিত্বগত প্রশ্নকে মীমাংসা করতে গিয়েই মানুষ নিজের বিশেষ এই বৈশিষ্ট্য ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছে এবং একে বাস্তবায়ন করে সে এগিয়ে গেছে।

এরপরেও আপনি বলতে পারেন, আপনি এই যা কিছু বলছেন, এর দলীল কী? মনে করেন, এর উপযুক্ত দলীল আছে। সে ক্ষেত্রে সেই দলীলকে ‘উপযুক্ত দলীল’ হিসাবে আপনি আইডেন্টিফাই করবেন কীভাবে? ফারদার দলীল দিয়ে? অথবা, কাণ্ডজ্ঞান বা cognitive capability দিয়ে?

উক্ত পাঠকের সম্পূরক প্রশ্ন:

মানুষ নিজেকে সেরা মনে করেছে, সেরা হতে হবে, এর দলীল তো আছে। বাট এটা তো দুনিয়াতে সুখ লাভ করার জন্য। আমার অস্তিত্বের কারণ কী, এই প্রশ্ন নিয়ে তারা থাকলে তারা দুনিয়াত্যাগী ও খোদাভীরু মানুষ হওয়ার কথা…

আমার উত্তর:

আমি যখন আমার অস্তিত্বগত প্রশ্নকে সচেতনভাবে ডিল করতে যাই তখন মানব সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের সাথে আমি নিজেকে সংযুক্ত করি। নিজেকে সম্পৃক্ত করি মানবতার মহান ঐতিহ্যের সাথে। সব মানুষই মানব সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথ সংযুক্ত থাকে। কিন্তু তারা তাদের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে সব সময়ে সচেতন থাকে না। যখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, মতামত ও কার্যক্রমকে আপনি নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করবেন, কেন তিনি এমন ভাবছেন, এমন করছেন ইত্যাদি, তখন তা আপনি বুঝতে পারবেন। আপনি বুঝতে পারবেন এবং সে ব্যক্তি নিজেও স্বীকার করে নিবে, অবচেতনভাবে তিনি তার অস্তিত্বগত প্রশ্নকেই ডিল করে এই পর্যন্ত এসেছেন।

পাঠকের সম্পূরক প্রশ্ন:

একতম হতে পারলাম না। এগুলার সাথে নিজের অস্তিত্বের কারণ খোঁজার সম্পর্ক তো দেখছি না। পরিসংখ্যানও অন্য কথা বলবে। বরং দুনিয়াতে নিজেকে ফেমাস করা বা অন্য মানুষদের থেকে বড় হওয়া বা টিকে থাকার চেষ্টা করা, এসব মানুষের সভ্যতার পেছনে দায়ী। ইতিহাসও সেটা বলে। আর এগুলা নিম্ন শ্রেণির জীবের মধ্যেও পাওয়া যায়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মস্তিষ্ক অধিক পাওয়ারফুল। বাট হ্যাঁ, মানুষ এই প্রশ্নটি ভাবতে পারে যা অন্য নিম্নজীব ভাবে না। কিন্তু এর প্রয়োজন কী, সেটাই প্রশ্ন।

আমার উত্তর:

মানুষ অস্তিত্বগত প্রশ্নকে ডিল করতে গিয়ে কতটা কনসিসটেন্ট এন্ড সিরিয়াস হবে, কতটা আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দিবে, দুর্বল যুক্তির পরিবর্তে শক্তিশালী যুক্তির প্রতি কতটা কমিটেড হবে, সেটার ওপর নির্ভর করবে সে সত্যের কতটা কাছাকাছি হতে পারবে। একই পথে সে কতটুকু কত বেগে অগ্রসর হবে বা হচ্ছে সেটার ওপর নির্ভর করবে, সে মূল জায়গার কতটা কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে।

লেখাটির ফেসবুক লিংক

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *