একটি উদ্ভট সেক্যুলার বয়ান

বাল্যবিবাহ রুখে দাও। খুলে দাও বাল্যপ্রেমের দুয়ার।
যা কিছু করো, বয়স হোক ছোট বড়,
অসুবিধা নেই তাতে।

অসুবিধা শুধু বৈধ সম্পর্কে, বিবাহে।

ভেঙে দাও বিবাহ প্রথা, বলো কথা রাত্রি দিন, চিপায় চুপায় …!
কিছুটা হও সাহসী, ধরো হাত রাস্তায়,
অথবা হও বিপ্লবী, করো আলিঙ্গন,
দাও প্রকাশ্য চুম্বন।
অভ্যস্ত হোক আবাল জনতা।

ভালোবাসাই তো .., অপরাধ তো নয় ..।

যা কিছু করার, করো; আদায় করে নাও ইচ্ছে মতো চলার অধিকার।
শুধু করবে না বিয়ে, উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগে।

করো এটা ওটা সবকিছু, সম্মতি থাকাটাই শর্ত।
কিন্তু করবে না বিয়ে, উপযুক্ত বয়স হওয়ার আগে।

ছেলে মেয়েরা মেলামেশা করবে, তাদের ভালো লাগলেই হলো।
বাধা নেই তাতে।
‌‘সুরক্ষা’ নেয়ার কথাটা শুধু মনে রাখবে।

‌‘সম্পর্কের’ জন্য শুধু চাই সম্মতি। বিয়ের শর্ত উপযুক্ত বয়স।
এবং আরও কত কী …।

করতে পারো যখন যা মন চায়,
কিন্তু বিয়ে করতে যেও না যেন, এক ঘাটে বাধা পড়া বোকামি।
বিয়েটা খুব সিরিয়াস ব্যাপার, হবে জীবনে একবার।
প্রেম ভালোবাসা হবে, যাবে,
কমবেশি শরীরী ব্যাপার-স্যাপার হতে পারে যখন তখন
যে কারো সাথে। বাধা পড়ো না যেন দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে।

প্রেম করা, রিলেশান করা, ছেলে-মেয়েতে বন্ধু হওয়া,
এগুলো সাধারণ ব্যাপার।
ছেলের সাথে ছেলের, মেয়ের সাথের মেয়ের বিশেষ বন্ধুত্ব,
ও কিছু না, খারাপ নয় কিছুমাত্র।
তারা তারা সম্মত থাকে যদি;
এতে বাধা দেওয়ার কিছু নাই।

বন্ধুত্বই বড় কথা। সবাই আমরা সমানে সমান।
সামনের পথ, পিছনের পথ, আত্মরতি … ক্ষতি কী?
সর্বপ্রেমী হতে অসুবিধা কী? সব এক কথা। আনন্দটাই সব, সুখটাই বড় কথা।

ছেলে-মেয়েরা একটুখানি আনন্দ-ফূর্তি করবে, করুক;
এতে বাধ সাধার কিছু নাই।
সম্পর্ক করার অধিকার সহজাত সবার।
যদি হও মুক্তমনা
তাহলে কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাতে যেও না।

রিলেশন হলো টিনেজারদের নাগরিক অধিকার।

ইচ্ছেমতো প্রেম করো, বাধা নাই তাতে।
কিন্তু বিয়ে? না, না, না; কোনো অবস্থাতেই এ কাজ করতে যেও না এত অল্পতে।

বাল্যবিয়েতে ভয়ানক ক্ষতি, বাল্যপ্রেম যদিও সুমধুর অতি।

প্রগতিশীলতার এই যুগে; সাহিত্য, সংস্কৃতি আর বিনোদন মাধ্যমে
তাজা করা হচ্ছে তারুণ্য-চেতনা, প্রতিনিয়ত
জাগিয়ে তোলা হচ্ছে … দিনেরাতে,
শান দেয়া হচ্ছে অনুভূতিতে,
চারিদিকে আছে উদ্দীপ্ত হওয়ার বিস্তর উপাদান,
ব্যক্তিস্বাধীনতার এই জগতে।

যত ইচ্ছা করো ঢলাঢলি, আড়ালে আঁধারে;
প্রকাশ্যে হলেও ক্ষতি নাই। ব্যক্তিগত
এসব বিষয় নিয়ে বলাবলি করার কিছু নাই।
বাধা দেওয়ার মতো কিছু দেখি না এতে।

আঠারোর আগে বিয়ে নয়। আঠাশের পরে হলে বরং ভালো।
সে পর্যন্ত চলবে ব্যক্তিগত সম্পর্কচর্চা, মাঝখানের এই দেড় যুগ তোমার প্রস্তুতিপর্ব।

দেখে শুনে করতে হবে বিয়ে; সব ইয়ে চলতে পারে এই অবসরে।
তাতে বাধা দেওয়ার কিছু নাই।
খানিকটা কাছে আসার কিছু গল্প হোক না তৈরি,
বৈরি সমাজ ভেঙ্গে হোক ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, প্রণয়;
এসব তেমন সিরিয়াস তো কিছু নয়।
জনসংখ্যার হিসেব বৃদ্ধি না পেলেই হলো।

ছেলে-মেয়েদের শিখাতে হবে ব্যক্তিগত জীবনের সব কায়দা-কানুন।
আগেভাগে। শৈশব থেকেই হলে বেশি ভালো হয়।
ব্যবহারিক শিক্ষাটুকু যে যার মতো অর্জন করে নিবে।

চিনিয়ে দিতে হবে সব অলিগলি একান্ত ব্যক্তি জীবনের।
প্রশিক্ষণ দিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার। সচেতন করতে হবে আগেভাগে।
বাধা দেওয়ার কিছু নাই তাতে।
সহজভাবে নিতে হবে সব কিছু।

প্রেম হলো মৌলিক অধিকার।
বিয়েটা বাহুল্য। ভালোবাসাটাই বড় কথা।
প্রথম যৌবনেই সংসার জীবন, যেন স্বেচ্ছা দাসত্ব বরণ।

গেঁয়ো এই প্রাচ্য সমাজ অন্যায়ভাবে আরোপ করে যত বন্ধন
ছিন্ন করো সব, যাপন করো মুক্ত জীবন।
পাশ্চাত্য দুনিয়ার স্বাধীনতাময় ফেনোমেনাল আলোকিত জীবন।

প্রেম করো, বাধা নাই; বিয়ে করবে না খবরদার।
সম্পর্ক করো ইচ্ছেমতো। সম্পর্ক চর্চায় নাই কোনো অন্যায়।
দাবি করো, আদায় করো তোমার এই প্রাকৃতিক অধিকার।

কিন্তু, বিয়ে করবে না এখনি।
যদিও বা করো, অবশ্যই তা করবে অনেক অনেক অনেক ভেবেচিন্তে;
এবং সময় মতো, যতটা সম্ভব সাড়ম্বরে।
জীবন তো একটাই। কী লাভ বলো, বোকা থেকে আজীবন?
করো যখন যা চায় মন।

অভিভাবকেরা করে বাড়াবাড়ি, পাত্তা দিও না তাদের।
উপেক্ষা করো সব মোল্লাদের কথা।
মূল্যবোধের দোহাই হলো
নিপীড়নের হাতিয়ার, মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

তোমার জীবন তোমারই। একান্তই তোমার। বাবা-মা’র নাই
তোমার ব্যক্তি-স্বাধীনতা আর প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার।
নষ্ট করার মতো অতটা সময় কোথায়?
উপভোগ করো যেভাবেই হোক পাওয়া এই একটিমাত্র জীবন।

ঠেকাও বাল্যবিবাহ।
শহরে-বন্দরে গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক গণ-ভালোবাসা।
বছরের প্রতিটি দিবস হোক ভালোবাসা দিবস। বাল্যপ্রেম বড় মধুর।

প্রতিষ্ঠা করো অধিকার। কেয়ার করো না কাউকে। সমাজটা হোক এমন,
প্রত্যেকের থাকবে যাচ্ছেতাই করার অধিকার,
প্রত্যেকেরই হোক নিত্যনতুন সুখ বেছে নেয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ,
প্রত্যেকের হোক বাধাহীন মুক্ত জীবন।

ধর্ম মাত্রই হলো পশ্চাৎপদতা আর নিপীড়নের হাতিয়ার।
অধিকার চাও যদি ছুঁড়ে ফেলো ধর্মের জোয়াল।
পাপ পূণ্য সব বানানো কথা। নেই কোনো স্বর্গ-নরক।
ঈশ্বর বলে কেউ নাই আসলে। বিশ্বাসের নাই কোনো ঠিক-ঠিকানা।
ধর্ম হলো জালিমের হাতিয়ার, সান্তনা দুর্বলের।

বিয়েহীন এক সমতার স্বর্গরাজ্যে
জীবন হোক সুস্থ ও সুন্দর সকলের।

 

ফেইসবুক লিংক

Leave a Reply