মৃগনাভী হরিণের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তার মৃগনাভী

H Al Banna, আজকের দিনের সাইফুল্লাহ মানছুর। নিকট ভবিষ্যতের মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী। ভবিষ্যতের স্টিভেন স্পিলবার্গ। আমার দৃষ্টিতে।

সম্বিৎ ফেরানোর জন্য মানুষকে কখনো কখনো আঘাত করতে হয়। তেমনি করে একদিন বান্নাকে হিট দিয়ে বলেছিলাম, ‘দেখো, মৃগনাভী হরিণের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তার মৃগনাভী। এর জন্যই সে নিহত হয়। তেমন করে তোমরা যারা এক ধরনের নামডাক ও খ্যাতি অর্জন করেছো, তোমাদের এই নামডাক ও খ্যাতিই তোমাদের কনসেপ্টচুয়্যাল ডিভেলপমেন্ট না হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তোমাদের মতো উঠতি সেলিব্রেটিদের উচিত, আমাদের মতো তাত্ত্বিকদের সাথে মাঝে মধ্যে সময় কাটানো। যাতে করে তোমরা থিওরেটিক্যালি এনরিচ হতে পারো।’

আমার এ কথায় কাজ হয়েছে। এরপর থেকে বান্না মাঝে মাঝে আমার কাছে আসে। ওর ব্যস্ততা সত্ত্বেও সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয়ে আমাদের সাথে লম্বা-চওড়া ও গভীর আলাপ-আলোচনায় এনগেইজড হয়। এতে করে ওর মধ্যে যথেষ্ট মজবুত কনসেপ্টচুয়্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে। একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমি তার জন্য দোয়া করি।

আর হ্যাঁ, নাম না ধরেই বলছি, তোমরা যারা ইসলামী মতাদর্শকে বেইজলাইন বা গাইডিং প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে গ্রহণ করেছো এবং নিজের মতো করে সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছো; তোমরাও তোমাদের মতো করে রিচ ইনাফ, আলহামদুলিল্লাহ। তারপরেও বলতে হয়, থিওরেটিক্যাল রিচনেস মানুষের একান্ত জীবনবোধ হতে উৎসরিত হওয়া সত্ত্বেও এটি পরিশীলিত ও কার্য উপযোগী হয়ে উঠে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্টদের সাথে পারস্পরিক মুক্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে।

আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের নেক্সট লেভেলে যাওয়ার পরেই শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বুঝতে পারে, আগের ধারণাগুলো ততটা গভীর, বিস্তৃত ও সুনির্দিষ্ট ছিল না। বেলুন ফোলানোর মতো। বাতাস অল্প হলেও বেলুন ফুলে উঠে। এরপর, আরো বাতাস দেয়ার পরেই শুধু বুঝা যায়, এর আগে বেলুন ফোলানো থাকা সত্ত্বেও তাতে অনেকখানি জায়গা ফাঁকা ছিল।

আসলে বাাতাস এক অতীব জরুরি জিনিস। নিঃশ্বাস নেয়া ছাড়াও। দেখেন, গাড়ির টায়ারগুলো যে এত ভার বয়ে নিয়ে অবিরত পথ চলে, তার মাজেযা কিন্তু ভরপুর বাতাস।

তেমন গুরুত্বপূর্ণ হলো conceptual clarification বা তাত্ত্বিক স্বচ্ছতা। পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক হাওয়ার উপরেই মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। জীবনের পথ চলে। মানুষ যা কিছুই করে, তা কোনো না কোনো তত্ত্বের ভিত্তিতেই করে। হোক তা সচেতনভাবে অথবা অবচেতনভাবে। হতে পারে, ব্যক্তি বিশেষের কোনো তত্ত্ব ভুল কিংবা সঠিক। অন্টোলজির দৃষ্টিতে, এটি হলো, principle of sufficient reason। অর্থাৎ উপযুক্ত কারণ ছাড়া কোনো কিছু ঘটে না।

তত্ত্বচর্চা হলো আমার কাজ। একজন ইন্টেলেকচুয়্যাল হিসেবে এটি আমার এক্টিভিজমের জায়গা। আগ্রহীদেরকে প্রয়োজনীয় কনসেপ্টচুয়্যাল সাপোর্ট দেয়া হলো থিংক-ট্যাংক হিসেবে ‘সমাজ ও সংস্কৃতি অধ্যয়ন কেন্দ্র’র স্বপ্রণোদিত দায়িত্ব।

ইউসুফ কারযাভীর ‘কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্র’ প্রায় আড়াই শ’ পৃষ্ঠার একটা এক্সক্লুসিভ রাইটিং। এ বিষয়ে আমার দেখা সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ, ডিটেইলস ও কম্প্রিহেন্সিভ রচনা। আমরা এটি অনুবাদ করানোর চেষ্টা করছি। আহসান হাবীব ভাই এজন্য আমাদেরকে এক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে গেছেন। সম্প্রতি তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অনুবাদটি সম্পন্ন করে বইটি প্রকাশ করা তাই আমাদের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে।

সঙ্গীতসহ সংস্কৃতির নানা বিষয়ে সিএসসিএস-এর অবস্থান মাঝামাঝি। we are neither extreme-conservative, nor liberal-apologetic। বরং ব্যাপারটা আসলেই কী, তা নির্মোহভাবে তুলে ধরাই হলো আমাদের লক্ষ্য।

এই দৃষ্টিতে বান্নার সাথে এই আলাপটি অত্যন্ত প্রাসংগিক। গুরুত্বপূর্ণ। অলরেডি আমরা এটি ট্রান্সক্রিপ্ট করেছি। শীঘ্রই সেটি পাবলিশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

সকালে নাস্তা করার সময় দেখলাম ফেইসবুক আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে এটি আপ করেছিলাম। খানিকটা শোনার পরে মনে হলো, এটি আবার শেয়ার করি। আশা করি, অনানুষ্ঠানিক এই আলাপচারিতা আজকের দিনের সাংস্কৃতিক গেরিলা যোদ্ধাদের পথ দেখাবে।

মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য

H Al Banna: আমাদেরকে আল্লাহ এ রকম সরল, সহজ ও আন্তরিক রাখুক সারাজীবন।

MD Didarul Islam: ইয়া আল্লাহ, মুসলিম উম্মাহকে ইউসুফ আল কারযাবীর সাহেবের ফেতনা থেকে রক্ষা করুন। তিনি অপব্যাখ্যা দিয়ে ইখতিলাফের নামে হালালকে হারাম ও হারামকে বৈধ বানিয়ে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ তায়ালা সকল প্রকার নির্বুদ্ধিতা, হঠকারিতা ও চরমপন্থা হতে রক্ষা করুন, আ-মী-ন …!

Raad Fakhrul: মুসলিম উম্মাহর প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের মান-মর্যাদা হে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে বাড়িয়ে দাও এবং তাদের ও তাদের সমর্থকদের বিজয়ী কর।

MD Didarul Islam: ইয়া আল্লাহ, মুসলিম উম্মাহকে সত্যিকারের প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যাক্তিগণকে চেনার ও নির্বুদ্ধিতা, হঠকারিতা, মডারেট, চরমপন্থা থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন। আ-মী-ন।।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: হে প্রভূ, আমাদেরকে ওয়াসাতিয়্যা বা মধ্যপন্থী হিসেবে থাকার তৌফিক দাও। তুমি তো বলেছ, “এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি। যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে। …” (সূরা বাকারা ২:১৪৩)

MD Didarul Islam: রব্বী, আপনি আপনার দ্বীনের প্রত্যেকটি বিধানকে বানিয়েছেন মধ্যমপন্থা করে, যাতে চরমপন্থা বলে কিছু নেই। সেই দ্বীনকে কাটছাট না করে, পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আর প্রিয় Mohammad Mozammel Hoque ভাইজানকে দ্বীনে হক্বের পথে চলার ও বেশি বেশি খেদমত করার তৌফিক দান করুন। আ-মী-ন।।

Marzuk Jahir: মোজাম্মেল স্যার পর্যাপ্ত পরিমাণে দ্বীনে হকের পথে চলছেন। উনার জান্নাতের জিম্মাদার আপনি নন। আর শাইখ ইউসুফ কারজাভীর মতো দ্বীন ইসলামের জন্য কিছু করতে পারলে তখনই কেবল উনার সমালোচনা করতে আইসেন। নিজের চিন্তা করুন। মোজাম্মেল স্যারের চিন্তা না করে নিজে পরিপূর্ণভাবে মেনে চলুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনের খেদমত করার তৌফিক দিন, আমিন।

Muhammad Ishrak: আমার এক জুনিয়র ঢাবিতে নাট্যকলায় পড়তেছে। যদিও সে নিজেকে বান্না থেকে আলাদা বলে মনে করে, তার যে প্ল্যান তাতে সে বান্না হইতে চায় আর কি। সাংস্কৃতিক জগতে বিপ্লব করবে। গান করবে, সিনেমা বানাবে, অভিনয় করবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো আমি ওকে বললাম, তোমরা যারা থিওরি না শিখেই এক্টিভিজমে যাইতেছ তোমাদের তো যোগফল শূন্য। যদি নাই জানো কোন এক্টিভিজম কাজে দিবে আর কোনটা কাজে দিবে না, তাইলে সেই এক্টিভিজম করে লাভ কী? ও বলে, এত তত্ত্বকথার সময় নাই। ঐসব করলে ওর পারফর্মিং আর্ট ব্যাহত হবে। মুভি দেখা হবে না, গান শোনা হবে না।

আমি বললাম, ফাইন। খুবই যৌক্তিক কথা। তাইলে একজন তাত্ত্বিকের তাকলিদ করো।

ছেলেটি এখনও আমাকে অপছন্দ করে। কারণ, আমি এক্টিভিজমকে বুদ্ধিবৃত্তির হিসাবে নীচু সারির মনে করি। আসলে বাংলাদেশে তো কবি, সাহিত্যিক, আর সাংবাদিকদেরকে বুদ্ধিজীবী বলে মনে করা হয়; এইজন্যই বোধহয় এই ভ্রমটা তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: তাত্ত্বিকভাবে কোনো অসঙ্গতি থেকে গেলে বাস্তবে সেটা সমাধান করা অসম্ভব। Consistent theory first. and then proper and tremendous activism is required. Theorizing is the most appropriate activism for the intellectuals.

লেখাটির ফেইবুক লিংক

Leave a Reply